শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৩০ কিলোমিটার হেঁটে সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:১৪

রাজশাহীতে আগামী শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে ধর্মঘট শুরুর আগেই রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। অনেকে হেঁটেই এসেছেন সমাবেশস্থলে। তারা পথে পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

গতকাল বুধবার দিনগত রাতে বগুড়া থেকে বাসে রওনা দিয়েছিলেন প্রায় ৫০০ জন নেতা–কর্মী। তাদের রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। তখন রাত দুইটা। এই দলের সঙ্গে ছিলেন বগুড়া শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মুর্শেদুল মিঠুন।

তিনি বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বগুড়া থেকে আসছিলেন। রাজশাহীর মোহনপুরের কামারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। তাদের এক নেতার মাথা ফেটে যায়। তারপর তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বিভিন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। ছবি: ইত্তেফাক

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনদিন দেখিনি সরকারি দল দেশে হরতাল ডাকে। বিরোধী দলকে কথা বলতে না দেওয়ার জন্য, একটি সমাবেশকে পণ্ড করার জন্য তারা এই কাজ করেছে।’ তবে তারা গর্বিত বোধ করছেন বলে জানান। কারণ, সেখান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার হেঁটে সকাল সাড়ে ৬টার তারা রাজশাহীর পাঠানপাড়া ঈদগাহ মাঠে এসে পৌঁছেছেন।

সিরাজগঞ্জ থেকে একইভাবে বাস নিয়ে আসছিলেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকায় এলে পুলিশ তাদের বাস ঘুরিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে তারা সেখান থেকেই হাঁটা শুরু করেন। রাত ১টার দিকে রাজশাহীর ঈদগাহ মাঠে এসেছেন পৌঁছান। সেই দলে ছিলেন সিরাগঞ্জের বিএনপি সমর্থক সিরাজুল ইসলাম। তিনি দেখালেন, হাঁটতে হাঁটতে পা ফুলে গেছে।

রাজশাহী বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীরাও সমাবেশস্থলে। ছবি: ইত্তেফাক

বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম বাদশা বলেন, কিছু গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই। এমন গাড়িতে লোক আসছিল। রাতে তাদের সার্জেন্ট ছিল না। এ কারণে মামলা দেওয়া যাচ্ছিল না। আবার মামলা দিতে হলে গাড়ির প্রকৃত মালিক ও চালক দরকার। তাদেরও পাওয়া যাচ্ছিল না।

ওসি জানান, এসব গাড়ি গিয়ে নাশকতা ঘটাতে পারে। এজন্য বাধ্য হয়ে এ ধরনের গাড়িকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর রাজশাহী মহানগর ও মোহনপুর থানার সীমানায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছিল। যানজট এড়াতে চার–পাঁচটা গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্মঘটে সিএনজি-অটোরিকশা নগরবাসীর ভরসা। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে, রাজশাহীতে গণসমাবেশের উদ্দেশ্যে এসে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়ে ছিলেন বিভিন্ন জেলার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নগরের পাঠানপাড়া ঈদগাহ মাঠে গিয়ে তাদের খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে দেখা যায়।

জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, পুলিশ বানেশ্বরে যে কাজ করেছে, সেটা তাদের রুটিন কাজ। গণসমাবেশে কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য তারা বাসগুলোতে তল্লাশি করেছেন। গাড়ির কাগজপত্র দেখেছেন। পুলিশ যতটুকু দায়িত্ব পালন করে, ততটুকুই করেছে। কাউকে হয়রানি করা হয়নি। কোনো গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এসকে