রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৭৫ রোগী

মাদারীপুরে আবারও ডায়রিয়ার প্রকোপ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩০

মাদারীপুরে আবারও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কেবল জেলা সদর হাসপাতালেই গেল ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে অন্তত ৭৫ জন রোগী। যার ৮০ শতাংশই শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা কর্মীরা।

বুধবার হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার কালীবাড়ি এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাহসিন আহম্মেদ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালে। বেডসংকটে বাধ্য হয়ে চেয়ারে বসেই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাহসিন আহম্মেদ বলেন, আমার পরীক্ষা চলমান। হাসপাতালে নেই বিছানা, মেঝেতেও জায়গা সংকট। এই পরিস্থিতিতে চেয়ার কিনে বসে বসে চিকিৎসা নিচ্ছি।

সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার ষাটোর্ধ্ব হারেজ মাতুব্বর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এলে তার ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে। তিন দিন ধরে তিনি আছেন এই অবস্থায়। পাননি বেড। ষাটোর্ধ্ব হারেজ মাতুব্বর বলেন, ২৪ ঘণ্টায় দুটা স্যালাইন দিয়েছে। ঠাণ্ডায় মধ্যে মেঝেতে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চারদিকে দুর্গন্ধ বাড়ছে। হাসপাতালের পরিবেশ খুবই খারাপ। শুধু তাহসিন আহম্মেদ কিংবা হারেজ মাতুব্বরই নন, তাদের মতো আরও রোগী আসছেন জেলা সদর হাসপাতালে। যাদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।

মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (টিআইবি) সমন্বয়ক এস ই জাসচু বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৫ জন রোগী। গেল এক সপ্তাহে চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত ৩৫০ জন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য জেলা সদর হাসপাতালে বেড বরাদ্দ মাত্র ছয়টি। ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতাটি চালু করা গেলে এই সংকট দূর হবে বলে আশা করছি।

মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স দুলালী রানী শিকদার জানান, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালের ডা. শাওলীন আফরোজা বলেন, সচেতনার অভাবেই রোগীর চাপ বেড়েছে। খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমএএম