শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতারণা করে পাকশী রেলওয়ে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদোন্নতি!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৬

প্রতারণা করে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী নিয়ম বর্হিভূতভাবে উচ্চতর বেতন স্কেলে সরকারি রাজস্ব হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে সেগুন বাগিচার অডিট টিম আপত্তির প্রতিবেদন দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস জানায়, ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ের সার্ভিস বুকে মো. আব্দুল আলীম খাঁন কুলাউড়া ডিস্পেন্সারিতে ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি কর্মক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণির যে সার্টিফিকেট ব্যবহার করেছেন তাতেও স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখেছেন। সেখানে ঢাকার দোহার থানার ইকরাশী গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ তার স্থায়ী ঠিকানা কুষ্টিয়ার কুমারখালি থানার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে।

আব্দুল আলীম খান কুলাউড়া কর্মস্থল থেকে বদলী হয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় সদর দপ্তর পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে যোগদান করেন। নিয়োগ নিয়ম অমান্য করে আব্দুল আলীম বিধি বহির্ভূতভাবে ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট থেকে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর ১৯ অক্টোবর আব্দুল আলীম তরিঘরি করে রাজবাড়িতে রেলওয়ের সহকারী সার্জনের কার্যালয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন।

যোগদানের পর ২০১১ সালে ২ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ের অডিট অধিদপ্তর ঢাকার সেগুন বাগিচা থেকে অডিটের জন্য একটি তদন্ত টিম আসে। টিমের প্রধান ইকবাল হোসেন তদন্তে বিধি বহির্ভূতভাবে পদোন্নতির জন্য আপত্তি জানান।

উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির পাশের ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট থেকে তাকে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেয়ার কোনো বিধান নাই। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম। তাছাড়া এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে অডিট টিম সার্ভিস বুকে মতামত ব্যক্ত করেন।

অভিযুক্ত আব্দুল আলীম বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমার পদোন্নতি হয়েছে। উন্মুক্ত থেকে এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে পদোন্নতির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। পাকশী বিভাগীয় অফিসের সার্ভিস বুকের জন্য আবেদনসহ সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছি। তবে কী কারণে সার্ভিস বুকে ওঠেনি জানি না। কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে পৈত্রিক বাড়ি হলেও আমরা ঢাকা জেলাতেই মানুষ হয়েছি বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাকিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  

এব্যাপারে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। অনেক আগের ঘটনা, আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/আরএজে