বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সিলালা নদী নিয়ে চিলি-বলিভিয়া বিতর্কের অবসান

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩:৪৩

আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়েছে দুই দেশ। দুই দেশই ভয়াবহ খরায় আক্রান্ত। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিলালা নদীর জলবন্টন নিয়ে বিতর্ক চলছিল চিলি ও বলিভিয়ার। দুই দেশই নদীর জল ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। 

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছে, সিলালা নদী একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ মেনেই দুই দেশকে ওই নদীর জল ব্যবহার করতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে দুই দেশকে ওই নদীর জল ব্যবহার করতে হবে। দুই দেশ আদালতের রায় মেনে নিয়েছে। দুই দেশই এই রায় তাদের জয় বলে দাবি করেছে। 

সিলালা নদী একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা।

চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক বলেছেন, 'আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে আমরা যে আবেদন করেছিলাম, আদালত তার সমাধান করেছে। আমরা খুশি। এতদিন এই নদী দুই দেশকে বিভক্ত করে রেখেছিল। এবার দুই দেশ যৌথভাবে এই নদীকে কীভাবে ব্যবহার করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। 

চিলির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আদালত একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিলালা নদী কোনো দেশের সম্পত্তি নয়, এটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পড়ে।

চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক

বলিভিয়া প্রাথমিকভাবে এই রায়ের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু পরে তারা জানিয়েছে, বলিভিয়া খুশি কারণ, এই রায়ের ফলে তারাও ওই নদীর জলের সমান অংশ ব্যবহার করতে পারবে। দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, 'এবার আমরা এই নদীর জল সমানভাবে ব্যবহার করতে পারবো।'

বলিভিয়ার পাহাড় থেকে বয়ে সীমান্ত পেরিয়ে সিলালা নদী চিলির আতাকামা মরুভূমির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে খরায় আক্রান্ত। গত ১৩ বছর ধরে ভয়াবহ খরার প্রকোপে চিলি। 

বলিভিয়ার পাহাড় থেকে বয়ে সীমান্ত পেরিয়ে সিলালা নদী চিলির আতাকামা মরুভূমির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

গত এক হাজার বছরের মধ্যে এমন দীর্ঘ খরা পৃথিবীর কোনো দেশ দেখেনি। অন্যদিকে বলিভিয়ার পানতানাল অঞ্চল, যা মূলত জলাভূমি হিসেবে পরিচিত, তাও গত ৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খরার মুখোমুখি। এই জলাভূমি ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিস্তৃত। ফলে চিলি ও বলিভিয়া দুই দেশের কাছেই সিলালা নদীর জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

ইত্তেফাক/ডিএস