শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভরা মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনে পর্যটকের খরা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:৪৮

পর্যটনের ভরা মৌসুমে পূর্ব সুন্দরবনে এবার পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। পর্যটকদের জন্য বনবিভাগের অতিরিক্ত হারে ভ্রমণকর নির্ধারণ ও জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকরা সুন্দরবনে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পর্যটক না পাওয়ায় পর্যটনের সাথে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার সময় পার করছেন বলে ট্যুর অপারেটররা জানিয়েছেন।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম চলছে। অন্যান্যবারের মতো এবার সুন্দরবনে তেমন পর্যটক আসছে না। প্রতিবছর সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্র, কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্র, দুবলারচরসহ বনের দর্শনীয় অনেক স্থানে দেশি-বিদেশি শত শত পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। এ বছর তেমন পর্যটক আসছে না।

সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত শরণখোলার রাসেল আহমেদ জানান, সুন্দরবনে এখন পর্যটকের খরা চলছে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। গত দুই সপ্তাহে কটকা কচিখালীতে তেমন পর্যটকের দেখা মেলেনি। পর্যটনের সাথে জড়িত সব বিষয়ে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে বলে রাসেল আহমেদ মনে করেন।

ছবি: ইত্তেফাক

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন খুলনার সেক্রেটারি নাজমুল আযম ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত সুন্দরবনে তেমন পর্যটক যাচ্ছে না। স্টেকহোল্ডারদের সাথে কোন পূর্ব আলোচনা ছাড়াই সুন্দরবন বিভাগ গত ফেব্রুয়ারি মাসে আকস্মিকভাবে সুন্দরবন ভ্রমণের রাজস্ব ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আগে একজন দেশি পর্যটককে সুন্দরববন ভ্রমণের জন্য প্রতিদিনের জন্য ১৫০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটককে ১৫০০ টাকা রাজস্ব দিতে হতো। সেখানে এখন দেশি পর্যটককে ৩০০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটককে ৩ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। একইভাবে নৌ-যান, লঞ্চ ও ট্রলারের ফি দ্বিগুন-তিনগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের বাজারদর বৃদ্ধিতে সুন্দরবন ভ্রমণের খরচ বেশি হওয়ায় দেশীয় সাধারণ পর্যটকরা সুন্দরবনে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

নাজমুল আযম আরও বলেন, পর্যটক কমে যাওয়ায় পর্যটনের লঞ্চ, জাহাজ ও ট্রলারের সাথে জড়িত মানুষজন যেমন বেকার বসে আছে, তেমনি লঞ্চ মালিকরা মোটা অংক বিনিয়োগ করে লোকসানের মুখে পড়ছে। বনবিভাগের রাজস্ব হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি ১০ দিন আগে এখানে যোগদান করেছেন। কটকায় এক-দুইটা ট্যুরিস্ট লঞ্চ দেখতে পেলেও এ বছর পর্যটকের সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শহীদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পর্যটক একটু কম দেখা যায়। ভ্রমণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের পর্যটকদের ওপর এর একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ইত্তেফাক/এসকে