চাপ কাটিয়ে নক আউটের লড়াই শুরু করতে চায় আর্জেন্টিনা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৫:১৯

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এসে প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হার। শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নক-আউটে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। নক-আউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ১টায় আহমাদ বিন আলী স্টেডিয়ামে নক-আউট লড়াইয়ে সকারুদের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তারা। অনেক নাটকীয়তার পর সি-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নক-আউটে উঠছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ডেনমার্ককে চমকে দিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে ডি-গ্রুপ থেকে নক-আউট নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
 
দুটি দলই অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নক আউট পর্বে খেলতে এসেছে । সেই আত্মবিশ্বাস থেকে সামনে এগিয়ে যাবার সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাইবে না।

ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌদি আরবের কাছে হারার পর আর্জেন্টিনার জন্য   সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে দিয়েছিল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হবার পর শেষ ম্যাচে ডেনমার্ককে ১-০ গোলে পরাজিত করে নক আউট পর্বের টিকিট পায়।

সৌদির কাছে বিস্ময়করভাবে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। পরাজিত হলেই বিদায় নিশ্চিত এমন কঠিন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত অবশ্য লিওনের মেসির যাদুতে আর্জেন্টাইনরা পার পেয়ে যায়। এরপর পোল্যান্ডের সঙ্গে ২-০ গোলে জয়ী হয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নক-আউট পর্বে খেলতে এসেছে। 

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির বিবেচনায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মূল একাদশে সুযোগ পেয়েই কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। পোলিশদের সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার গোলেই লিড পায় আর্জেন্টিনা। এরপর জুলিয়ান আলভারেজের ৬৭ মিনিটের গোলে আলবিসেলেস্তেদের জয় নিশ্চিত হয়।

এই জয়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ ১২ আসরের ১১টিতেই নক আউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে। গ্রুপ পর্বের পর মাত্র দুই দিনের বিশ্রাম শেষে আবারো মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে গ্রুপ-সি’র শীর্ষস্থান পেতে শেষ দুটি ম্যাচেই লড়াই করতে হয়েছে স্কালোনির শিষ্যদের। স্কালোনি জানেন গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলে কোন যুক্তি দিয়েই এই পরাজয়ের ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারবেন না। দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে তাই কোপা আমেরিকা জয়ী কোচ বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে মূল দলে সুযোগ করে দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ। তাদের সঙ্গে মেসির উপর পুরো দলের ভার তো রয়েছেই।

আজকের ম্যাচে জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে নেদার‌ল্যান্ড বনাম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জয়ী দলকে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের কাছে হেরে ৩৬ ম্যাচ জয়ের ধারা ভাঙ্গার পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন শুধুই জয়ের নেশা।

ছবি: সংগৃহীত

এর আগে দুই দলের চারবারের মোকাবেলায় সকারুজরা প্রতিবারই হেরেছে আর্জেন্টিনার কাছে। তবে টোকিও অলিম্পিকে গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বয়সভিত্তিক দলটির কাছে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়া এবারের সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছে। 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের পরে গ্রুপ-ডি’র দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলতে খেলতে আসা গ্রাহাম আর্নল্ডের অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে গোল ব্যবধানে পিছনে পড়েছিল। তিউনিশিয়া ও ডেনমার্ককে হারিয়ে তারা ফ্রান্সের সমান ৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার ও গোলরক্ষক ম্যাট রায়ান দুর্দান্ত খেলেছেন। তাদের কারনেই ড্যানিশরা সকারুদের রক্ষনভাগ ভাঙ্গতে পারেনি। ৬০ মিনিটে ম্যাথিউ লেকির একমাত্র গোলে জয়ের পাশাপাশি শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার।

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথমবারের মত শেষ আট নিশ্চিত করার স্বপ্নে বিভোর অস্ট্রেলিয়া। শেষ দুই ম্যাচে দাপুটে জয় তাদের সেই আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। আর তা যদি শেষ পর্যন্ত হয়েই যায় তবে নক আউট পর্বের টিকিট পাবার পর মেলবোর্নের রাস্তায় যেমন আনন্দ উদযাপন হয়েছিল তা সিডনি, অ্যাডিলেড ছাড়িয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জয়ী দলটির উপর আস্থা থাকলেও কোচ  স্কালোনি তার মূল একাদশ নিয়ে আরো একবার চিন্তা করছেন বলেই আভাস রয়েছে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সঙ্গে নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো ও লেফট-ব্যাকে মার্কোস অ্যাকুইনাকে দেখা যেতে পারে। 

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া দলেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। নাথানিয়েল অ্যাটকিনসন ও ফ্রান কারাসিচের স্থানে মূল একাদশে দেখা যেতে পারে রাইট-ব্যাক মিলোস ডিগেনেককে। ডেনমার্কেও বিরুদ্ধে ৪৫ মিনিট মাঠে থাকা ক্রেইগ গুডউইনের স্থানে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেছিলেন কিনু বাকুস।

ইত্তেফাক/এসএস