শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রিমিয়ারে প্রশংসিত ‘ওমর ফারুকের মা’

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৫৩

পিরোজপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের মা বিশ্বাস করতেন তার সন্তান বেঁচে আছেন। কোনো একদিন ফিরে আসবেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে ছিলেন তিনি। এমন গল্প সিনেমায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা এম এ জাহিদুর রহমান। নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’।  

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ফিল্ম আর্কাইভে ‘ওমর ফারুকের মা’ সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন, শহীদ ওমর ফারুকের ছোট বোন সালমা রহমান হ্যাপি। 

উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামুল কবীরসহ আরও অনেকে। প্রিমিয়ারে শো দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছেন হলভর্তি দর্শক। 

প্রিমিয়ার শোতে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ‘ওমর ফারুকের মা’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন মাসুম রেজা। 

এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে (ওমর ফারুকের মা) অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব দিলারা জামান, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বন্যা মির্জা, সাহেদ শরীফ খান, খাইরুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, সালমা রহমান, আইনুন পুতুল, রিপন চৌধুরী, কাজী রাজু, সৈয়দ শুভ্র, মুকুল সিরাজ, এ বি এম মোতাহারুল ইসলাম, প্রণব ঘোষ, রোশেন শরিফ ও তুহিন আহমেদসহ আরও অনেকে। 

মূলত, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পিরোজপুর জেলার আমড়াঝুড়ি কাউখালী উপজেলার আশোয়া আমড়াঝুড়ি নামক স্থানের একজন মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক আর তার মায়ের। 

ওমর ফারুক ২১ বছরের যুবক, ছিলেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ওমর ফারুক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভিক যোদ্ধা। স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ পিরোজপুরের টাউন ক্লাব চত্বরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক, পুড়িয়ে ফেলেন শহরের সব পাকিস্তানি পতাকা। এক সন্ধ্যায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ট্রেজারি ভেঙে লুট করেন অস্ত্র। আত্মগোপনে থেকে সুসংগঠিত করতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাদের। যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিল রাত্রে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবে। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাত্রে সে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ধরা পড়ার সময় তার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের ৭টি পতাকা পায় পাক সেনারা। নির্যাতনের এক পর্যায়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে মাথায় পতাকাসহ একটি লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, পাক হানাদার বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয় তার; শহীদ হন ওমর ফারুক, কীর্তনখোলা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় তার লাশ। 

৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, পার হয় নাই ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা। মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাড়িতে ভাত বসান, রাত্রে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়, ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে।

ইত্তেফাক/এএএম