রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:২৪

কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহর থেকে সড়কপথে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়শিবির কুতুপালংয়ে যান তিনি। আগের দিন বিকালে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে করে কক্সবাজারে পৌঁছান এবং সৈকত সংলগ্ন একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান করেন।

কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের চারপাশে ২০টির বেশি ক্যাম্পে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। সোমবার সকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি বহর কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে পৌঁছায়। প্রথমে তিনি ক্যাম্প-৯-এর সার্ভিস সেন্টার পরিদর্শন করেন। এরপর ক্যাম্প-৮ ডব্লিউ পরিদর্শন শেষে সেখানে ১০-১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ইলিয়াস আহমদ বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, আশ্রয়শিবিরে থাকার পরিবেশ কেমন? নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন? মিয়ানমারে ফিরে যেতে রোহিঙ্গারা রাজি কি না? মিয়ানমারে পরিবেশ কেমন।

 

জবাবে কয়েকজন রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক বর্বর নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, গণহত্যা ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরতে রাজি। কিন্তু ফেরার আগে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং যেখান থেকে (রাখাইন রাজ্য) রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, সেখানেই (নিজেদের বসতভিটায়) পুনর্বাসন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রোহিঙ্গারা।’

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ‘মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেছেন, মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানবিক সেবায় রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে দেশটি।’

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ক্যাম্প ইনচার্জ) মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। কিন্তু সেখানে কী কথা হয়েছে, তিনি জানেন না। বিকেলে সড়কপথে কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানে ঢাকায় ফিরেন তিনি।’

ইত্তেফাক/এআই