শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আরামবাগের বিকল্প প্রস্তাবও নাকচ

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০২

আর তিন দিন পরেই ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। তবে স্থান নিয়ে এখনও কোন মীমাংসা হয়নি। বাড়ছে উত্তেজনা। বিএনপি নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু পুলিশ ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতারা দুই দফা বৈঠক করে নয়াপল্টনের বিকল্প ভেন্যু হিসাবে মতিঝিল এলাকার আরামবাগে সম্মত হয়। কিন্তু গতকাল সোমবার সেটাও নাকচ করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির পক্ষ থেকে আবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, খোলা মাঠ ছাড়া রাস্তাঘাটে কোনও সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আমরা বিএনপিকে সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দিয়েছি। আশা করছি, সেখানেই তারা সমাবেশ করবে। আর যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান স্বস্তিকর করতে বিএনপির কোনো সুপারিশ থাকে তাহলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

মতিঝিল বিভাগের ডিসি হাইয়াতুল ইসলাম খান বলেন, গতকাল বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ডিএমপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে আরামবাগ সড়কে সমাবেশ করার মৌখিক প্রস্তাব দিলে সেটি নাকচ করে দেয় ডিএমপি।

এদিকে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। নেতারা বলেছেন, গতকাল গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের অফিসে মতবিনিময় সভা হয়েছে।  সেখানে দলের নেতারা বলেন, যে কোন মূল্যে সমাবেশ হবেই। ইতোমধ্যে নেতা-কর্মীরা ঢাকা আসা শুরু করেছেন। নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দিলে গোটা ঢাকায় সমাবেশ হবে। সেটা কিন্তু ঠেকানো যাবে না। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করার জন্য মিছিল হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এমতাবস্থায় আগামী ১০ ডিসেম্বরের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। সমাবেশ যেকোনো মূল্যে আমাদের সফল করতে হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজপথ কাউকে ছেড়ে দেয়নি। ১০ ডিসেম্বর রাজপথ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে থাকবে। নেতাকর্মীরা পাহারায় থাকবে প্রতিটি ওয়ার্ডে। গতকাল সোমবার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে অনেক ছাড় দিয়েছে। কিন্তু যদি সমাবেশের নামে বেশি বাড়াবাড়ি ও বিশৃঙ্খলা করে এবং জনগণের জানমালের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে তাহলে তাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সমুচিত জবাব দেব।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা (বিএনপি) শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করুক। সমাবেশ করার অধিকার আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে আছে কেন? মানুষের আতঙ্ক দূর করতে হবে। সমাবেশের নামে নৈরাজ্য করলে রাজপথেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। যেদিন বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু হয় সেই ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করবে বিএনপি। এই দিনটি সমাবেশের জন্য কেন বিএনপি বেছে নিল সেটা জানি না।

একইদিন রাজধানীর খামারবাড়িতে কেআইবি মিলনায়তনে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড.মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করে বিএনপি কিছুই করতে পারবে না। আর বাড়াবাড়ি করতে চাইলে মতিঝিল থেকে হেফাজত যে রকম পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, সে রকম পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পল্টনেই সমাবেশ হবে: মির্জা আব্বাস

গতকাল রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ নয়াপল্টনেই করার দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে পুলিশের তল্লাশি চৌকি, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি, আমার বাসা ঘেরাও সবই একইসূত্রে গাঁথা। এসব করে গণসমাবেশ দমানো যাবে না। সমাবেশ বানচাল করতে ভয় পেয়ে সরকার এসব করছে।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গ্রেপ্তার ও আক্রমণ করে কেউ গণসমাবেশ রুখতে পারবে না। গ্রেপ্তার করে গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, টুকু-নয়নদের ধরে গণজোয়ারের ঢেউ ঠেকানো যাবে না। সমাবেশের জন্য আমরা পল্টনে অনুমতি চেয়েছি, কারণ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু আপনারা সে কথার গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে গুলশানে মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সমাবেশে উপলক্ষে ইতোমধ্যে অনেক লোক ঢাকা আসা শুরু করেছেন। পল্টন এলাকায় গেলেই দেখা যাবে লোকে লোকারণ্য। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে একটি গোষ্ঠী হামলা-মামলা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দিলে গোটা ঢাকা হবে সমাবেশের নগরী।

ইত্তেফাক/ইআ