শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হাবিপ্রবি ছাত্রলীগে এক যুগের খরা কাটেনি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪২

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর)। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দুই দফায় জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পরও নতুন কমিটি পায়নি দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ। এতে করে ছাত্রলীগে এক যুগের খরা কাটছে না প্রতিষ্ঠানটিতে।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১০ সালে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি ও কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। এরপর গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। একই সঙ্গে নতুন কমিটির জন্য ১৫ দিনের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়। পরে ১৩ ডিসেম্বর পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী ও উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান। এরও প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে।

দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতার কারণে হাবিপ্রবির কমিটি হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক আব্দুল্লাহ হীল বারী।

তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে হতাশ। অনেক চেষ্টার পরও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠন করা যায়নি। কেন্দ্রে নতুন নেতৃত্ব এলে এই বিষয়ে নজর দেবে বলে আশা করি।'

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, 'কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর দায় এড়াতে পারেন না। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। নতুন যারা দায়িত্বে আসবে তারা যেন এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।'

এর আগে গত ১৪ মে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বক্তব্যে আশাবাদী হন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ঐ সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে জয় বলেন, 'হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু ইউনিটে ছাত্রলীগ কমিটি করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।' কেন্দ্রীয় নেতার এমন বক্তব্যে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা উজ্জীবিত হলেও এখন তারা হতাশ। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার পরেও সাংগঠনিক পরিচয় না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে হচ্ছে। বিষয়টি হতাশার। ২০১০ সালের পর অনেকগুলো ব্যাচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছে। এদের অনেকেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু কমিটি না হওয়ায় পদ-পদবি কারোর ভাগ্যে জোটেনি।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এসটিএম