ভরা মৌসুমেও ভোজ্য লবণের দাম কেজিতে বেড়েছে চার টাকা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৪

বাজারে প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণের দাম বেড়েই চলেছে। ভোজ্য লবণ কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কেজিতে বেড়েছে প্রায় চার টাকা। এখন লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুম চলছে। মাঠে লবণের দামও প্রতি মণে প্রায় দেড়শ টাকা কমেছে। কিন্তু তারপরও কেন লবণের মূল্য বৃদ্ধি তার কারণ মিলছে না।

মিলমালিকদের অভিযোগ, বর্তমানে মিলগুলো চাহিদার অনুপাতে লবণ সরবরাহ পাচ্ছে না। আবার ঘাটতি বিবেচনা না করে মাত্র দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়ায় ঘাটতি পূরণ হয়নি। বাজারের চাহিদা অনুপাতে দেশীয় লবণ আসতে আরো সময় লাগবে।

বাজারে গত দুই সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণ আরেক দফায় বেড়েছে। গত চার-পাঁচ মাস আগে ভোজ্য লবণ কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরে দাম বাড়িয়ে ৩৫/৩৬ টাকায় বিক্রি করা হয়। এখন কোম্পানিগুলো আরেক দফায় দাম বাড়ানোর ফলে খুচরা বাজারে ভোজ্য লবণ কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণের দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দেন। এখন মন্ত্রণালয়ও দাম বাড়ায়নি। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, চার-পাঁচটি বড় কোম্পানি প্যাকেটজাত ভোজ্য লবণ বাজারজাত করে থাকেন। এসব কোম্পানির ভোজ্য লবণও বাজারে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি রয়েছে। ফলে বাজারে বেশি চাহিদাকে টার্গেট করে তারাই ভোজ্য লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, ‘এখন লবণের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। মাঠে লবণের দাম প্রতিমণ ৬০০ টাকা থেকে কমে ৪৫০ টাকায় নেমে এসেছে। এখন লবণ উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে। দাম বাড়ানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

বাজারে নামিদামি কোম্পানি ছাড়াও অসংখ্য ব্যবসায়ী প্যাকেটজাত করে বাজারে ভোজ্য লবণ দেদার বিক্রি চলছে। এসব ভোজ্য লবণে প্রয়োজনীয় আয়োডিন না মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে সদরঘাট এলাকায় একাধিক কোম্পানির ভোজ্য লবণে পর্যাপ্ত আয়োডিনের উপস্থিতি পায়নি।

বিসিক প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম (লবণ সেল) সারোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সব দিক বিসিক দেখে থাকেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন। ভোজ্য লবণ খুচরা বাজারে কেজি ৩৮ টাকার মধ্যে বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখন বাড়তি মূল্যে বিক্রির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’

দেশের লবণ বাণিজ্য নিয়ে নানা ধরনের কারসাজি চলছে। শিল্পের জন্য সারা বছরই সোডিয়াম সালফেট আমদানির অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করছে। তারা বাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে বাজারজাত করছেন। সোডিয়াম সালফেট আমদানির অনুমোদন লবণ মিলমালিকদের নেই। ফলে কারসাজির মধ্যে প্রকৃত লবণ মিলমালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ লবণ মিলমালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিসিকের কতিপয় কর্মকর্তার কারণে দেশের লবণের বাজারে অস্থিরতা চলছে। তারা সময়মতো ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় এখন লবণের বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৫ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতির মধ্যে আমদানির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে দেড় লাখ টনের। অনেক মিলেই লবণ নেই। ফলে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে দেদার সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে বাজারে বিক্রি চলছে। এসব বিষয়ে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিসিকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু যথাযথ সিদ্ধান্ত মিলছে না। মিলগুলোতে যেখানে দৈনিক ৭ হাজার টনের চাহিদা সেখানে ৫০০/৬০০ টনের বেশি লবণ মিলছে না।’

বিসিক সূত্র জানায়, এবার ২৪ লাখ টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতি মৌসুমে সাড়ে ২৫ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। আবহাওয়া লবণ উৎপাদনের অনুকূলে রয়েছে। ফলে এবার লবণ উৎপাদনের বাম্পার ফলনের আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ