ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও বেপরোয়া গতি, বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০১

বিদায়ি নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৬৪৩ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও চার জন আহত হয়েছে। নৌপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত এবং সাত জন নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ৬৬৮টি দুর্ঘটনায় ৭০৯ জন নিহত ও ৮৪০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাত্ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, ছোট যানবাহন ক্রমশ বৃদ্ধি, বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সার্ভিস লেন না থাকায় ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা বিভিন্ন ফিডার সড়ক থেকে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নেমে আসার ফলে এসব ছোট যানবাহন দূরপাল্লার বাস ও প্রাইভেট কারের গতির কমিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া, গুরুত্বপূর্ণ জংশনে, রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজগুলোতে যানজট তৈরি করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ১৭ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ১৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়। সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৮৪ জন চালক, ৮৭ জন পথচারী, ৮৫ জন নারী, ৮৯ জন শিশু, ৫০ জন পরিবহন শ্রমিক ৭৪ জন শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য পেশার লোক রয়েছে। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ২২৫ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৫৯ জন নারী, ৫৭ জন শিশু, ২৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৯ জন শিক্ষার্থী, ১৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, পাঁচ জন সাংবাদিক, দুজন চিকিত্সক ও এক জন এনএসআই সদস্যের পরিচয় মিলেছে।

সংঘটিত দুর্ঘটনায় ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ বাস, ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস এবং ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়কে দুর্ঘটনায় ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ খাদে পড়ে, ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ বিবিধ কারণে, ১ দশমিক ১৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০ দশমিক ১৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সংঘটিত হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ