শুরুটা নকআউট পর্বেই হয়েছিল। পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোস এবং অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, এই দুজনের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। দূর থেকে দেখলে মনে হবে দুজনের দারুণ মিল। কাছাকাছি থাকলেও তারা মনের দিক থেকে যে কতটা দূরত্বে ছিলেন সেটি কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগেই জানাজানি হয়ে যায়। সেটাও হতো না যদি ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কেউ প্রসঙ্গটা না তুলতেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খেলা না খেলার চেয়েও বড় হয়ে উঠল ক্লাবের গুঞ্জনের বিষয়টি। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৩ সাল হতে সেখানে যোগ দেবেন। এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এসেছে। আড়াই বছরের জন্য রোনালদো সৌদির ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন। এ কারণে বিশ্বকাপ শুরুর হওয়ার আগেই বর্তমান দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেছেন সিআরসেভেন।
বিশ্বকাপ চলাকালীন কোনো ফুটবলার যদি নতুন ক্লাবের চুক্তি নিয়ে মাথা ঘামাতে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই। এক সাংবাদিক কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের কাছে জানতে চাইলেন, দলের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন। পর্তুগাল কোচ রাকঢাক না করে বললেন, ‘দেখুন এই সংবাদ সম্মেলনে ঢোকার আগমুহূর্তে খবরটা জেনেছি। আমরা আসলে এসব বিষয় নিয়ে ভাবছি না।’ কয়েক সাংবাদিকের হাতে মাইক্রোফোন ঘুরে আবারও রোনালদোর প্রসঙ্গ উঠল।
প্রতি সিজন ২০০ মিলিয়ন ইউরোতে চুক্তি হতে যাচ্ছে রোনালদোর সঙ্গে। রোনালদো এমন একজন ফুটবলার, যাকে নিয়ে বারবার কথা উঠবে। সেটা জানাই আছে কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের। কিন্তু এবার কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে রোনালদো ইস্যুতে কোচ সান্তোস যেন বিব্রতই হচ্ছিলেন। একটা সময় বাধ্য হয়ে বলেই ফেললেন, ‘আমি খেলায় মনোযোগ দিতে চাই।’ দেশ আগে নাকি নিজের ক্লাব ফুটবল নিয়ে ভাবনা আগে। বিশ্বকাপ খেলতে এসে দেশের জন্য পারফরম্যান্স করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ক্লাব চুক্তি নিয়ে মাথা ঘামাতে গেলে দেশের খেলাটা নিয়েই বা কখন চিন্তা করবেন রোনালদো। ফার্নান্দো সান্তোস,‘সবাই তো দেশ নিয়ে চিন্তা করছে। কেউ যদি দেশ রেখে বাইরের ভাবনা নিয়ে থাকেন তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমি এখানে দেশের জন্য এসেছি। আশা করব সিআরসেভেন দেশ নিয়েই ভাবছেন। সেও অন্য কিছু নিয়ে ভাবছে না।’
কিন্তু সিআরসেভেন মাঠে মেজাজ হারাচ্ছেন কেন? কোরিয়ার বিপক্ষে ৬৫ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। বেরিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার এক ফুটবলার রোনালদোকে দ্রুত বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। তাতে ক্ষেপে গিয়ে আগুন ঝরালেন আচরণে। ঘাড় ঘুরিয়ে সেই কোরিয়ান ফুটবলাররের দিকে চাহনি দিলেন। যা দেখে কোরিয়ানও রিঅ্যাক্ট করেছেন। মঙ্গলবার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা টিভির পর্দাও দেখা গেছে। উত্তেজনা দেখে পর্তুগালের অন্য দুই ফুটবলার এসে কোরিয়ান খেলোয়াড় এবং রোনালদোকে সরিয়ে নেন। সেদিন মাথা গরম করেছিলেন কেন? প্রশ্ন উঠল সংবাদ সম্মেলনে। তাহলে কি রোনালদোর সঙ্গে দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, কিংবা কোচের সঙ্গে রোনালদোর দূরত্ব রয়েছে কি না। ফার্নান্দো সান্তোস বললেন, ‘এখানে দূরত্বের কী দেখলেন। সেদিনের ঘটনা মিটমাট হয়ে গেছে।’ রোনালদো মাথা গরম করলেও কোচ সান্তোস পরিষ্কার জানিয়েছে, ‘আমরা ম্যাচ প্রসঙ্গেই থাকতে চাই।’
