বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ছবিটি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করবে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩:১৭

মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব গল্পের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’। ৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, তবু পার হয়নি ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা। মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাড়িতে ভাত বসান, রাত্রে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়, ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে। পিরোজপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের মা বিশ্বাস করতেন তার সন্তান বেঁচে আছেন। কোনো একদিন ফিরে আসবেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে ছিলেন তিনি।

এমনই একটি গল্প রঙিন পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা এম এ জাহিদুর রহমান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখায় দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন নাট্যজন মাসুম রেজা। প্রতিটি সংলাপ বলা চলে মুগ্ধ করার মতো।

বন্যা মির্জা ও সাহেদ শরীফ খানকে দিয়ে শুরু হয়েছে সিনেমার গল্প। তারা দু’জনেই ওমর ফারুকের মায়ের কাছে শুনতে চার তার ছেলের যুদ্ধে যাওয়া গল্প। যে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান। ছবির শুরু থেকে তার অভিনয় ছিল সাবলীল। পিরোজপুরের ভাষাও খুব সহজেই আয়ত্ব করেছেন। ওমর ফারুকের বৃদ্ধ মায়ের ভূমিকায় তিনি সফলভাবে রূপায়ন করেছেন এটা বলার অবকাশ রাখে না। তার সন্তান ফিরে পাওয়ার করুণ আকুতি হলভর্তি সবাইকে কতটা আবেগী করেছে তা দর্শকদের চোখের জলই প্রমাণ করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

বৃদ্ধা মায়ের ছেলের চরিত্রে সাঈদ বাবুর অভিনয়ও বরাবরের মতো মুগ্ধ করেছে। যুদ্ধের সময় সে মাকে কথা দিয়ে যায় ফিরে এসে খাবার খাবে। কিন্তু ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাতে স্বাধীন বাংলাদেশের ৭টি পতাকাসহ পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পতাকাগুলো তার মাতায় হাতুড়ি দিয়ে গেঁথে দেয় তারা। এমন লোমহর্ষক দৃশ্যগুলো নিখুঁতভাবে বাবু ফুটিয়ে তুলেছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে।

চলচ্চিত্রটির কাল্পনিক চরিত্রে নাজনীন হাসান চুমকি অভিনয়ও পুরো ছবিটি জুড়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে। তার প্রিয় মানুষটির জন্য অপেক্ষায় প্রহরগুলো ছিল যেন বাস্তব প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতিচ্ছবি। এর বাইরে অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও নিজেদের চরিত্র রূপায়নে যথেষ্ট সুবিচার করেছেন।

ছবিটির প্রতিটি চরিত্র উপস্থাপন, দৃশ্যধারণ, অভিনয়, সংগীতায়ন এবং সম্পাদনায় নিজের শৈল্পিক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নির্মাতা জাহিদুর রহমান। বলা চলে, নির্মাতার নির্মাণ দক্ষতা এবং শিল্পীদের প্রচেষ্টায় ছবিটি হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের এক বাস্তব চিত্র। যা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ