রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফুসফুস ক্যানসারেই আক্রান্ত হচ্ছে বেশির ভাগ নারী-পুরুষ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০২

ক্যানসার ইনস্টিটিউটে আসা রোগীদের ৫৫ শতাংশই নারী। বাকি ৪৫ শতাংশ পুরুষ। নারী-পুরুষ উভয়ের সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে, যা ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এই চিকিত্সাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আসা প্রায় ৩৬ হাজার রোগীর ডায়াগনোসিস করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এই সময়ে ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন নতুন রোগী এলেও ডায়াগনোসিস হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৩৩ জনের। এতে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ রোগীর ক্যানসার শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে ক্যানসার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। ইনস্টিটিউটের এপিডেমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম এই গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। রাজধানীর ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে লিঙ্গভেদে পুরুষের ফুসফুস ও নারীর স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালটিতে পুরুষ ক্যানসার রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। আর নারীদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ রোগী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত।

ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধের বিকল্প নেই জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসও ক্যানসারের একটি বড় কারণ। কয়েক বছর আগেও এটি নিয়ে কাজ করা এতটা সহজ ছিল না। চিকিত্সাব্যবস্থাও ততটা উন্নত ছিল না। এখন পরিবর্তন হয়েছে। তবে এখনো অনেক ঘাটতি আছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ইনস্টিটিউট দরকার। নতুন করে আটটি মেডিক্যাল কলেজ হচ্ছে, সেখানে হয়তো হবে। কিন্তু যারা করবে, তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ধূমপানসহ নানা অভ্যাসের কারণে অনেকে নিজেরাই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখা উচিত। পাশাপাশি এটি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

নীতিনির্ধারকদের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোন ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য এবং কোনটি চিকিত্সা ছাড়া হবে না, সেটি নির্ণয় করতে হবে। একই সঙ্গে পৃথক লিঙ্গ ও বয়সকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোন বয়সে কোন ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। শামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে চিকিত্সা ব্যয় বেশি হওয়ার বড় কারণ ক্যানসার। রাষ্ট্রের এই জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিত্সাবিজ্ঞানে যেখানে প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি উন্নত হয়েছে, সেখানে এখনো আমরা পিছিয়ে। ডায়াগনোসিস করতে পারছি না। এমনটি কেন হবে?’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, ‘২০১৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতীয়ভাবে একবার জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা করেছিল, এরপর আর হয়নি। নতুন করে এই গবেষণা করার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। এটি হওয়া জরুরি। কিন্তু এর জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, সেটা নিয়েই প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘একটি গবেষণা মানে রোগীর ডায়াগনোসিস থেকে শুরু করে তার অবস্থা কোন পর্যায়ে, কোথায় গিয়ে থামতে পারে—সব লিপিবদ্ধ করা, যেটি অনেক বেশি কঠিন। কারণ, আমাদের ডায়াগনোসিস ও সুযোগ-সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নিজামুল হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের ক্যানসার ইপিডেমিওলজি বিভাগের বিদায়ি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন প্রমুখ।

ইত্তেফাক/ইআ