আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতির মাঠে খেলা হবে। এ খেলা হবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বর মাস, বিজয়ের মাস। সবাই প্রস্তুত আছেন? তিনি বলেন, খেলা হবে বিএনপির ভোট চুরি আর ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে, তাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল পৌনে ৪টায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি এবং সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল হক মুজিব এমপি।
ভার্চুয়ালি বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিশ্বকাপে সামনে কোয়ার্টার ফাইনাল। সেখানে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া খেলবে, আর্জেন্টিনাও খেলবে। বাংলাদেশেও খেলা হবে। এবার ডিসেম্বরে খেলা হবে বিএনপির লুটপাটের বিরুদ্ধে, নাশকতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে। স্লোগান তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার। নৌকা, নৌকা। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনারা ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল না। বিএনপি হচ্ছে সন্ত্রাসী, জঙ্গি, স্বাধীনতা বিরোধী খুনীর দল। এদের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা শোভা পায় না। এরা (বিএনপি) যে গণতন্ত্র, মানবাধিকারের কথা বলে- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে হত্যা করে খুনি মোশতাক-জিয়া সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। সামরিক ফরমান ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন কোথায় ছিলো তাদের মানবতা, কোথায় ছিলো গণতন্ত্র? জিয়া ক্যান্টনমেন্টে বসে দল গঠন করে রাজনীতি করেছিলো, সে ছিলো পাকিস্তানের এজেন্ট। মহান মুক্তিযুদ্ধের সাড়ে ২২ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে বের করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলো জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, এটা পঁচাত্তর না যে, বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখল করা যাবে। শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে ১০ ডিসেম্বর হটিয়ে তারা (বিএনপি) নাকি ক্ষমতা দখল করবে। পলাতক তারেক জিয়া নাকি বীরের বেশে দেশে এসে সরকার গঠন করবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, স্বাধীনতার শক্তি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শক্তি। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মতো আরও একটি যুদ্ধ করতে হবে। ওই সময় আমাদের কমান্ডার ছিলো বঙ্গবন্ধু, এখন কমান্ডার শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে (২০১৫ সালে) পেট্রোল বোমা মেরে এই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিশুসহ ৮ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। অবরোধের নামে ৩ মাস দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নাকে খত দিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) বাসায় আছেন। তারা (বিএনপি) বলে, আওয়ামী লীগ নাকি পালাবে! বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ কখনো পালায়নি। বাংলার জনগণকে বিপদে রেখে বঙ্গবন্ধু কখনো পালিয়ে যাননি। পালিয়েছে বিএনপি।
তিনি বলেন, আমরা তো কাউকে মিটিং-সমাবেশ করতে বাধা দেইনি। যে সমাবেশ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। মানুষের ক্ষতি হয় তা আমরা হতে দেব না। তিনি বলেন, বিজয় মাসে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কোথায় গেল বিএনপির অবরোধ, কালকে (বুধবার) পল্টনে রিয়ারসেল করলো। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলতে দেওয়া হবে না, আইনের শাসন রক্ষায় পুলিশ যা করার তাই করবে।
সম্মেলনের সভাপতি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সুনাম আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ বক্তা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ডিসেম্বর মাস- মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের মাস। এ মাস স্বাধীনতার মাস। এ মাসে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপি-জামাত যদি হুঙ্কার দেয়, তাদের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগ কচুপাতার পানি না যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবেন? তিনি বিএনপি-জামাতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সন্ত্রাস নাশকতা করলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
সম্মেলনে বিশেষ বক্তা ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কুমিল্লার বরুড়া আসনের এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম খাঁন এমপি। সম্মেলনে দলের জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
সভার শেষ পর্বে সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মুজিবুল হক এমপির নাম ঘোষণা করেন। তারা দুজন একই পদে পূর্বের কমিটিতেও ছিলেন।
