ভারতে বজ্রপাতে এ বছর ৯০৭ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৮

ভারত শুধুমাত্র বজ্রপাতে এ বছর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০৭ জন। প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্যে এমনটি দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।  

ভারতের পার্লামেন্টে দেওয়া প্রতিবেদনে দেশটির ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা প্রায় আটগুণ বেড়ে মোট ২৭টি হয়েছে এবং বজ্রপাতের সংখ্যা ১১১ গুণেরও বেশি বেড়েছে। বজ্রপাতে এ বছর ৯০৭ জন মারা গেছেন। 

অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা প্রায় আটগুণ বেড়ে মোট ২৭টি হয়েছে

বজ্রঝড়ের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়ে ২৪০টি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে এই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

মন্ত্রণালয়টির দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এই বছরের ৭৮শতাংশ মৃত্যু বজ্রপাত, বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে হয়েছে। ভারত সরকার আগস্ট মাসে সতর্ক করেছিল, এই শতাব্দীতে মৌসুমি বায়ুর তাপমাত্রা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দাবানল আরও ঘন ঘন হতে পারে। 

এই বছরের ৭৮শতাংশ মৃত্যু বজ্রপাত, বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন দূষণকারী দেশ, কিন্তু অনেক উন্নত দেশের তুলনায় মাথাপিছু নির্গমন কম। প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটি এই বছর এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ মার্চ অনুভব করেছে। এপ্রিল ও মে মাসে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা দেখেছে। এর জন্য মূলত দায়ী করা হয় জলবায়ু পরিবর্তনকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী দাবানলে এক লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। এটি অনুমান করা হয়, ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও অগ্নিকাণ্ডে প্রতি বছর অতিরিক্ত ২.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যাবেন।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন দূষণকারী দেশ, কিন্তু অনেক উন্নত দেশের তুলনায় মাথাপিছু নির্গমন কম।

ভারতের পশ্চিম প্রতিবেশী পাকিস্তান এ বছর ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে। বন্যায় দেশের এক তৃতীয়াংশ তলিয়ে যায়, দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।  

ইত্তেফাক/ডিএস