ধর্ষণে নগণ্য সংখ্যক আসামির সাজা হতে দেখা যায়: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২০:১১

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমাদের মামলাজট কমিয়ে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আনতে হবে। কোন বিচারপ্রার্থীকে বছরের পর বছর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখতে চাইনা। বিলম্বিত বিচারে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি তার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়। 

তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে যাওয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ তা সমাজে ক্রমবর্ধমান হারে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়। দেখা গেছে, ধর্ষণ মামলায় শেষ পর্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসামির সাজা হয়। বাকিরা প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানি, সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব, বাদী পক্ষের সঙ্গে আসামি পক্ষের সমঝোতা ইত্যাদি কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ বেড়েই চলেছে এবং সম্প্রতি সমাজের শিক্ষিত লোকের মাধ্যমেই এই ঘৃণিত কাজ বেশি চলছে। 

রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি। 

আরো পড়ুন: সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, আধুনিক কালে উন্নত বিশ্বে অপরাধ বিজ্ঞান ও উন্নয়ন তত্ত্বের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক অর্থাৎ উন্নয়ন বাড়লে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং উন্নয়ন কম হলে অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা বাড়বে-এই সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অপরাধ সমানতালে চলছে। তাই যে কোন উপায়ে আমাদের অপরাধ বা অপরাধ প্রবণতা কমাতে হবে। নইলে আমাদের উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়তা করে অপরাধ দমনে এগিয়ে আসুন। একজন অপরাধীও যাতে আইনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বিচার এড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। ‘অপ রাধ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে’’ এই নীতি নিয়ে এগিয়ে চলবেন। দেখবেন তাহলেই সামাজিক অপরাধ কমতে থাকবে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, জনগণ উন্নয়নের পুরো সুফল ভোগ করতে পারবে। 

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।

ইত্তেফাক/এমআই