১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে নিউইয়র্কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জেনোসাইড ডে উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে ৪৭তম অ্যাভিনিউ ও ফার্স্ট অ্যাভিনিউর দাগ দ্য হ্যামারশোল্ড প্লাজায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
৩০ লাখ মানুষকে হত্যাসহ ২ থেকে ৪ লাখ নারীকে যৌন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে জেনোসাইড সংঘটিত করে। সেই মর্মন্তুদ ঘটনার প্রতি দৃষ্টিপাত করে জাতিসংঘ যাতে বাংলাদেশের সেই গণহত্যা ও অপরাধকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে স্বীকৃতি দেয় তার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারন্যাশনাল জেনোসাইড ডে’র প্রতি তাদের একাত্মতা ঘোষণা করে বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যাকে জেনোসাইড হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই ধরনের দাবি জানান বাংলাদেশিরা আগস্ট মাসে ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে।
এদিকে গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না এবং ওহাইয়ো রাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য স্টিভ শ্যাবোট উত্থাপিত একটি বিলে বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকৃত দেওয়ার লক্ষ্যে বিল উত্থাপন করেন। এ বছর বাংলাদেশে ১৯৭১-এর গণহত্যার পক্ষে একাধিক গণসচেতনতা সৃষ্টি। অন্যদিকে কংগেসে বিল উত্থাপন এবং দুটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনেকেই আশাব্যঞ্জক বলেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্র নাথ রায়, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, শরাফ সরকার, সাগর লোহানী, ডা. মাসুদুল হাসান, ফাহিম রেজা নূর, মিনহাজ আহমেদ, ডা. প্রতাপ দাস, জাকির হোসেন বাচ্চু, স্নিগ্ধা আচার্য, সুলেখা পাল।
বিক্ষোভ সমাবেশে যে ব্যানার বহন করা হয়, তাতে জাতিসংঘকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন ইউএসএ।
সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার স্বীকৃতি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ‘লেটার ক্যাম্পেইনের’ বিশেষ কর্মসূচির’ শুভ সূচনা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের জেনোসাইডের স্বীকৃতি পেতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি বিল উঠেছে। এটিও আন্দোলনের ফলেই হয়েছে। তবে সবাইকে সরব থাকতে হবে রাজপথের পাশাপাশি দাপ্তরিক দেন-দরবারে। পাশাপাশি লেটার ক্যাম্পেইন চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর জেনোসাইডের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘আনটোল্ড স্টোরি’ প্রদর্শন করা হয়।
এদিকে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-৭১’ যুক্তরাষ্ট্র শাখা। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিবের রাজনৈতিক সম্পর্কিত কর্মকর্তা আদিত্য অধিকারী।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ফোরামের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মঞ্জুর আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকো, ফোরামের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল বাশার চুন্নু, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক এনামুল হক, নির্বাহী সদস্য রাশেদ আহমেদ, ইমদাদুল হক ও নাজিমউদ্দিন। আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ ও প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এ স্মারকলিপিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিবের স্বাক্ষর রয়েছে।
