ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, ঘটতে পারে বিপদ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার খাটিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভাঙ্গা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ২৮নম্বর খাটিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে আছে। আধাপাকা বিল্ডিংয়ের টিনে ধরেছে জং। নষ্ট হয়ে ভেঙে  পড়ছে কাঠ। দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দরজা-জানালাও ভাঙা। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

ছবি: ইত্তেফাক

৩৩ শতক জায়গার উপর ১৯৪১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা টিনচালা একটি ভবন নিমার্ণ করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যে ভবন নিমার্ণ করা হয়েছিলো সে ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরের পিইডিপি-২ অর্থায়নে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নিমার্ণ হলেও সেই ভবনের ছাদ দিয়েও পানি পড়ে। বিল্ডিংয়ের ভেতর অংশের ছাদের উপরের আস্তর খসে পড়ছে। 

এদিকে এ বিদ্যালয়টি হরষপুর-সিঙ্গারবিল সড়কের সংলগ্ন হওয়ায় এ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় এলাকাবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবাই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান। 

ছবি: ইত্তেফাক

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২৩৭ জন। এরই মধ্যে বালক ৯৯ জন, বালিকা ১৩৮ জন এবং ৫ জন শিক্ষক কর্মরত। একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে ও ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্কুলের বাথরুমটির বেহাল অবস্থা। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। 

বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের স্কুলটা পুরান হয়ে গেছে। মেঘ (বৃষ্টি) আসলে পানি পড়ে। বাতাস আসলে স্কুল ঘরের চালের (ছাউনির) টিন অনেক শব্দ করে। তখন আমরা অনেক ভয় পাই। আমার স্কুল সড়কের কিনারায়। মাঠে খেলতে গেলে বল সড়কে চলে যায়। স্কুলের বাউন্ডারি না থাকায় নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারি না। 

ছবি: ইত্তেফাক

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন জানান, এ উপজেলা থেকে ৬টি বিদ্যালয়ের নাম নতুন ভবনের জন্য পাঠিয়েছি। চাহিদাভিত্তিক সরকারি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এর তালিকায় খাটিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম আছে। আশা করছি শিগগিরই এ বিদ্যালয় নতুন একটি ভবন পাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে ভালো পরিবেশ প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিলে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে নিষেধ করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে নতুন ভবন করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও