সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দেশে চিকিৎসার ৭২ শতাংশ ব্যয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫৮

বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয় এবং এদের ৭৫ ভাগই মৃত্যুবরণ করে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন চিকিৎসার অভাবে। এছাড়া হঠাৎ কিডনি বিকল হয়েও প্রতি বছর আরো ২০ হাজার রোগী মৃত্যুবরণ করে। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার। অথচ বাংলাদেশে ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় ব্যক্তি নিজে বহন করে। আর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

তারা বলেছেন, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই এটা বেশি দেখা যায়। অথচ ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপের মতো দেশে কিডনি রোগীসহ অনেক জটিল রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা চালুসহ বা সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পেলে বাংলাদেশের মানুষকেও বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। সরকারকেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, জনগণকে সুস্থ রাখলে দেশের জিডিপি বাড়বে। গতকাল সোমবার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয় এবং এদের ৭৫ ভাগই মৃত্যুবরণ করে থাকে ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনের চিকিৎসার অভাবে। এছাড়া হঠাৎ কিডনি বিকল হয়েও প্রতি বছর আরো ২০ হাজার রোগী মৃত্যুবরণ করে। এই রোগীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুসহ প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে কিডনি সংযোজনের ব্যবস্থা করা দরকার। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা দরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাউথ ইস্ট ইউনির্ভাসিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম শমসের আলী বলেন, অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ আধুনিক জীবনধারা। তাই জীবন ধারা পরিবর্তনের দিকে জোর দিতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশে রোগীর তুলনায় ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। তাই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী তৈরি করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব হেলথ সায়েন্সের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহাবুব বলেন, সব মানুষের চিকিৎসা পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। সবর্জনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার যেন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় এবং অধিক ব্যবহৃত ওষুধগুলোর নির্দিষ্ট ও স্বল্পমূল্য নির্ধারণ করে দেয়, যাতে সাধারণ মানুষ সেসব ওষুধ সুলভে কিনে সেবন করতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, কিডনি সংযোজনের খরচ কমিয়ে রোগীদের সাধ্যের মধ্যে করতে হবে। জনগণকে সুস্থ রাখলে দেশের জিডিপি বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে রোগীদের বিদেশ যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। দেশের অর্থ পাচার হওয়া রোধ করতে হবে। প্রধান বক্তা প্রাইসওয়াটার হাউজ কুপার্স, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মেরি স্টোপস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মামুন রশিদ বলেন, প্রতি বছর বাজেট প্রণয়নের আগে চিকিত্সক বা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত যারা আছেন এমনকি অর্থনীতিবিদরাও দাবি তোলেন যেন বাজেটের ৭-৮ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় করা হয়। তবে স্বাস্থ্য খাতে ৩-৪ শতাংশের বেশি ব্যয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/ইআ