জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সোমবার (১২ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ১১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা পঙ্গু হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছর আগে দেশে এই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল জানান, হাজার হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছে, আরও হাজার হাজার শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও অনাহারে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, প্রায় ২২ লাখ ইয়েমেনি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের এক চতুর্থাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। বেশিরভাগই কলেরা, হাম ও অন্যান্য টিকা প্রতিরোধযোগ্য রোগের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দ্রুত রাজধানী সানা দখল করে নেয়। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনী পরের বছর ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে পুনরুদ্ধার করতে হস্তক্ষেপ করে।
হাজার হাজার মানুষ অনিরাপদ পানি, রোগের প্রাদুর্ভাব, অনাহার ও যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাবে বা পরোক্ষভাবে এর কারণে মারা গেছেন। ইউনিসেফের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ৩ হাজার ৭৭৪ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিগত বছরগুলোতে তিন হাজার ৯০৪ জন যুবককে যোদ্ধা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আর চেকপয়েন্টে ৯০ জনের মতো তরুণীকে ডিউটি দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের এই মানবিক সংকট সামাল দিতে ৪৮ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা চেয়েছে ইউনিসেফ। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় 2 অক্টোবরের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু তখন বিবাদমান দলগুলো মেয়াদ বাড়াতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে ৬২ শিশু হতাহত হয়েছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জানান, যুদ্ধবিরতি পুনর্নবীকরণ একটি ইতিবাচক প্রথম পদক্ষেপ হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সহায়ক হবে। পরিশেষে, শুধুমাত্র টেকসই শান্তিই পরিবারগুলোকে তাদের ছিন্নভিন্ন জীবন পুনর্গঠন করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা শুরু করতে দেবে।
