শরীয়তপুরে বাজারের আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে খাল, বন্ধ রয়েছে নৌচলাচল

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩১

শরীয়তপুর পৌরসভার আংগারিয়া বাজারের সঙ্গে কীর্তিনাশা নদীর সংযোগ খালে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে ক্রমেই খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নৌচলাচল। অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে আশপাশের জনবসতিতে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার আংগারিয়া বাজার। কীর্তিনাশা নদীর তীরে বাজারটি অবস্থিত। বাজারটিতে বিভিন্ন এলাকার কৃষিপণ্য বিক্রি করা হয়। ঐ বাজারের পণ্যসামগ্রী নৌপথে আনা-নেওয়ার সুবিধার জন্য ৭০ দশকে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের খালটি খনন করা হয়। ঐ খালের তীর ঘেঁষে জেলার খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। কীর্তিনাশা নদী থেকে খালটি দিয়ে নৌযান বাজার ও খাদ্যগুদামে পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। 

শরীয়তপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজ কানন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, ছোট বেলায় খালটি দিয়ে নৌযানে করে যাতায়াত করতাম। এখন সেই খালের প্রবাহ নেই। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে এখন ঐ খালের ধারেকাছেও যাওয়া যায় না। ময়লা-আবর্জনা থেকে পাড়া-মহল্লায় রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। আংগারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাছবাজার, মাংসের বর্জ্য, ক্লিনিক, ওষুধের বর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে। ময়লার সঙ্গে ফেলা হচ্ছে শত শত কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য। এ কারণে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিকল্প স্থান না থাকায় সবাই ঐ খালে ময়লা ফেলছেন। 

আংগারিয়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্যা বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার পাশাপাশি কিছু স্থানে খাল দখল করাও হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরকর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। আমরা ডাম্পিং ইয়ার্ড করার জন্য জমি খুঁজছি। জমি পাওয়া গেলে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা যাবে। তখন ময়লা-আবর্জনা ফেলার সমস্যা থাকবে না। আর খাল পুনরুদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, আংগারিয়া বাজারসংলগ্ন কীর্তিনাশা খালটিতে পানির প্রবাহ নেই এমন তথ্য জানা ছিল না। পরিদর্শন করে দেখব। প্রয়োজনে খালটি খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ