পাহাড় কেটে রোহিঙ্গার স্থাপনা নির্মাণ, হামলায় ৫ বনকর্মী আহত

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩৮

রোহিঙ্গা ইউসুফ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে কক্সবাজারের ঝিলংজায় পরিদর্শনে গেলে তার পরিবারের হামলায় পাঁচ বনকর্মী আহত হন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে বনপাহারা দল (সিপিজি) নারী সদস্যও রয়েছেন।

সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মহুরীপাড়ায় এলাকায় মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-  সিপিজির নারী সদস্যা (বনকর্মী)  হোসনে আরা (৫৫), রশিদা বেগম (৬১), রোজিনা আক্তার (৩০), রাজিয়া (৫৫) এবং বনকর্মী মানিকচন্দ্র (৪২) । 

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা জানান, ঝিলংজায় সম্প্রতি জবরদখল করে রাখা পাহাড় কেটে স্থাপনা করার খবর পায় স্থানীয় বিট অফিস। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে লিংকরোড বিটের বিট কর্মকর্তা সোহেল হোসেন বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যদের নিয়ে সেখানে যান। সেখানে পৌঁছালে এলাকার আবু বক্কর ওরফে রোহিঙ্গা ইউসুফ ড্রাইভারের পরিবারের সন্তান এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার এনামুল দলবল নিয়ে বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় সিপিজি নারী সদস্যদের চুলের মুঠি ধরে মাথা দেয়ালে মেরে রক্তাক্ত করে তারা। এতে করে পাঁচ বনকর্মী গুরুতর আহত হন। পরে অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে বনবিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়। বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যদের হামলাকারী আবু বক্কর সিদ্দীক ওরফে রোহিঙ্গা ইউসুফ ড্রাইভার, তার ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার এনামুল হক, মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার, স্ত্রী জুহুরা বেগম ও বোন জোহারা আকতারসহ অজ্ঞাতদের ধরা যায়নি।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযানে লিংকরোড বিট কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জমান সোভন, ঝিলংজা বিট কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, চেইন্দা বিট কর্মকর্তা ফছিউল আলম শুভ এবং সিপিজির নারী সদস্যরা অংশ নেন। 

এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বনবিভাগের সঙ্গে গিয়ে অভিযানে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বনবিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনবিভাগ চাইলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/আরএজে