ল্যাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা দলকে লিওনেল মেসি ২০১৪ সালেও বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন। একটু ভুলের জন্য সেবার সোনালি ঐ ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। ফাইনালে গঞ্জালো হিগুয়েইন সহজ গোলটি মিস না করলে বিশ্বকাপ ট্রফিটা সেবারই মেসির হাতেই শোভা পেত। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে উঠেছিল গোল্ডেন বল। ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দুঃসহ সময়ই পার করেছে। শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। কিন্তু মেসির ব্যক্তিগত অর্জন থেমে থাকেনি। তার পরেও মেসি সর্বকালের সেরা কি না, সে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছিল।
এবার কাতার বিশ্বকাপে যে মেসিকে দেখা গেল এর পরও কি প্রশ্ন উঠবে, মেসি সর্বকালের সেরা কি না? ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন। তৃতীয় গোলটি ডি-বক্সের ভেতর নানা কারিকুরি করে যেভাবে আলভারেজকে পাস দিয়েছেন সেটি দেখে থাকলে আপনি মেসির ভক্ত হতে বাধ্য। আলভারেজও বোধহয় জানতেন মেসি অমন কারিকুরি করছেন পাস দেওয়ার জন্যই! মেসির পাসে হালকা করে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বল ঠিকই জাল খুঁজে নিয়েছে।
মেসির সর্বকালের সেরা হওয়ার বিষয় নিয়ে এরপর আর কোনো কথা আছে? গত প্রায় দেড় যুগ ধরে মেসির সঙ্গে রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। কে সেরা—মেসি না রোনালদো? মাঝে মাঝে মেসির সঙ্গে তুলনায় এসেছেন আর্জেন্টিনার প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা।
ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পর সর্বকালের সেরা প্রশ্নটি জাগিয়ে তুলেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্যারি লিনেকার। তিনি মেসিকে নিয়ে এক টুইটবার্তায় সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন এভাবে, ‘বিতর্কটা এখনো আছে? আমি সর্বকালের সেরার কথা জিজ্ঞেস করছি।’
খেলার ধরন, ব্যক্তিগত অর্জন, ক্লাব এবং দেশের হয়ে অবদান নানা মানদণ্ডে সর্বকালের সেরা একেকজনের কাছে একেক রকম। ব্যাখ্যায়ও আছে ভিন্নতা। যারা মেসিকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে রাখেন না, তারা প্রশ্ন তোলেন তার দেশের হয়ে অর্জন নিয়ে। ২০২১ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন মেসি। কিন্তু বিশ্বকাপ মঞ্চে একবার ফাইনাল খেলাটাই বড় অর্জন ছিল। কাতার বিশ্বকাপে যেভাবে খেলছেন মেসি তাতে সেই আক্ষেপও ঘোচানোর পথেই রয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে গেছেন মেসি। নিজে ৫ গোল করেছেন, অন্যকে দিয়ে করিয়েছেন তিনটি। এছাড়া কাতার বিশ্বকাপে খেলা ছয় ম্যাচের মধ্যে ৪ খেলায়ই ম্যাচ সেরা হয়েছেন এ খুদে জাদুকর। সেমি ফাইনালের খেলায় মেসির তৃতীয় এসিস্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার ও ধারাভাষ্যকার নেভিল বিস্ময় হয়ে বলেছেন, ‘তৃতীয় গোলটি ছিল বিস্ময়কর মুহূর্ত। সে এই বিশ্বকাপে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। ওটা ছিল মেসিময় মুহূর্তের একটা।’
মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে চাইছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী তারকা রিভালদো। রিভালদো বলেন, ‘ব্রাজিল আর নেইমার না থাকায় আমি এখন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছি। মেসির আরো আগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়াটা প্রাপ্য ছিল। তবে স্রষ্টা সব জানেন, রবিবারই তোমার মাথায় উঠবে সেই মুকুট। তোমার ব্যক্তিত্ব এবং সবসময় যে ধরনের সুন্দর ফুটবল খেলে এসেছ, এ ট্রফি তোমার প্রাপ্য।’
