জামালপুরে মরিচের বাম্পার ফলন

ফলন ভালো হলেও দাম পাচ্ছে না মরিচ চাষিরা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৪

জামালপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। যাতায়াতে গাড়িভাড়া, সার ও কীটনাশকের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের বিগত বছরের তুলনায় এবার মরিচ আবাদে খরচ অনেক বেশি পড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় মরিচের দাম বৃদ্ধি না হওয়ায় অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরাঞ্চলগুলোর মধ্যে নাওভাংগার চর, কুলকান্দি, জিগাতলা, সাপধরি, নেয়ারপাড়া, মুন্নিয়া, বরুল, সিন্দুরতলী, ডিগ্রীরচর, বালুর চর, পূর্ব শ্যামপুর, টুপকার চর, বাটিকামারী, আদ্রা, ঝাউগড়া হাজিপুর, জামিরা, ছাতারিয়া, মানিকপটল, আদারভিটা, শিধুলী, রৌহা, হরিপুর, মল্লিকপুর, চান্দেরহাওড়া, কাপাসটিয়া গ্রামসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে।

বিভিন্ন হাট বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মণ কাঁচা মরিচ এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেলান্দহের চাষি বারেক মন্ডল বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছি। ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ মণ কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করেছি এবং বিক্রি করেছি ৬০ হাজার টাকা। মরিচ চাষ করে এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি।

সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, আমি ৭ বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছি। আমার খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত আমি এক লাখ ৪০ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছি।

জামালপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, এ বছর জেলার প্রায় ২২ হাজার চাষি ৯ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। আর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আট হাজার ৫০ হেক্টর জমি। এতে করে জেলায় ১৮ হাজার ৫১৫ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হবে আশা করা যাচ্ছে।

এ কৃষি কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মরিচের ভালো ফলন হয়েছে।

চাষিদের দাবি, চাষাবাদের জন্য সরকারের উচিত স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ঋণ দেওয়া। তাহলেই আর্থিক সংকট ছাড়াই কৃষি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

 

ইত্তেফাক/আরএজে