বিজয়ের ৩ নাটক

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:১৩

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এসেছে আমাদের বিজয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সৃষ্টিশীল মাধ্যমে প্রভাব ফেলবে—এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধের সেই গল্পের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জানাতে প্রতিবছরই বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয় বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্ম, যা সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করে থাকে।

এবারের বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত  তিনটি বিশেষ নাটক নিয়ে আমাদের আয়োজন। গ্রন্থনা করেছেন অজেয় চৌধুরী।

বীরাঙ্গনা

মুক্তিযুদ্ধের এক বীরাঙ্গনার করুণ কাহিনিই নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য। ১৯৭১ সাল, চারদিকে যুদ্ধের ডামাডোল। আমঝুপি নামে এক গ্রাম। সে গ্রামেরই মানুষ সয়ফর আর ময়ূরজান। খুব   ভালোবাসে একে অপরকে। দেশকে শত্রুমুক্ত করার যুদ্ধে সয়ফর তো আর ঘরে বসে থাকতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে যাবার। কিন্তু ময়ূরজানের কী হবে? যুদ্ধে যাবার আগে মসজিদের ইমাম ডেকে ময়ূরজানকে বিয়ে করে। ঠিক সেই রাতেই গ্রামে হানা দেয় পাকিস্তানী সেনারা। ময়ূরজানকে নিয়ে পালায় সয়ফর। আশ্রয় নেয় ময়ূরজানের খালা মতি বানুর বাড়ি। সেখানেই একরকম আতঙ্কে বাসর রাত কাটে তাদের। পরদিন খালার কাছে ময়ূরজানকে রেখে যুদ্ধে চলে যায়। এরপর অন্য ইতিহাস...। 

এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিজয় দিবসের বিশেষ নাটক ‘বীরাঙ্গনা’। বীরাঙ্গনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপর্ণা ঘোষ। নাটকের গল্প লিখেছেন বৈশাখী টিভির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন।

আনন জামানের চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করেছেন শুদ্ধমান চৈতন। নাটকটিতে অপর্ণা ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, মনোজ প্রামাণিক, রিয়া খান, মনির জামান, সানজিদা মিলা প্রমুখ।

টিপু আলম মিলন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে বীরাঙ্গনারা আজও অবহেলিত। সমাজে বসবাসরত কিছু মানুষের তাচ্ছিল্যের তীর বিদ্ধ করে তাদের। অন্তর-দ্বন্দ্বে দগ্ধ এসব বীরাঙ্গনার ত্যাগের কি কোনোই মূল্য নেই? তাদেরই একজন বীরাঙ্গনা ময়ূরজান। তার জীবনের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। হূদয়স্পর্শী এ কাহিনি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’ নাটকটি বিজয় দিবসে বৈশাখী টিভিতে রাত সাড়ে ৮টায় প্রচার হবে।

‘একাত্তুরের বিজয়িনী’

বেশ অল্প বয়সে সেনাবাহিনীতে কর্মরত হান্নানের সাথে বিয়ে হয় আয়শার। ভালোই চলছিল  তাদের সুখের সংসার। কিন্তু একদিন জমিজমা সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় তার চাকরি চলে যায়। তার কিছুদিন পর দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মান্নান সংসারের মায়া ছেড়ে ৯ নং সাব-সেক্টরে যুদ্ধ  করতে চলে যান। যুদ্ধের তিন মাসের মাথায় শহীদ হন মান্নান। একদিন বাড়িতে ফেরার সময় তাদের বড় মেয়েকে পাকিস্তানিরা তুলে নিয়ে ধর্ষণ শেষে মেরে ফেলে। এরপর ছয় মাসের দুধের শিশুকে রেখে যুদ্ধে যায় আয়শা। আয়শা একদিন দেশ স্বাধীন করেই ফেরে, কিন্তু হারায় জীবনের অনেক কিছু। এমনি গল্প নির্মিত হয়েছে বিজয় দিবসের বিশেষ নাটক ‘একাত্তুরের বিজয়িনী’।

মুস্তাফিজ শফির গল্প অবলম্বনে নাটকটির চিত্রনাট্য, রচনা ও পরিচালনা করেছেন জুবায়ের ইবনে বকর। এতে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, রাখী চৌধুরী, হাসিমুন প্রমূখ। বিজয় দিবসে এনটিভিতে রাত সাড়ে ৯টায় প্রচার হবে নাটক ‘একাত্তুরের বিজয়িনী’।

আজ বাবা আসবেন

সময়টা ১৯৭১ সালের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই। বিভিন্ন জায়গা থেকে বীরাঙ্গনাদের উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে আনা হচ্ছে। রেহানা ফুলপুর পুনর্বাসন কেন্দ্রে আছে প্রায় তিন মাস। মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শাহেদ তাকে এখানে দিয়ে যায়। হয়ত এ কারণে বাড়তি কিছু মায়া শাহেদের রেহানার জন্য। প্রায়ই চুড়ি, ফুল, কিছু উপহার পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে যায় রেহানার জন্য। কিন্তু দু’একবার শাহেদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বেরও করে দেয় সে। আজ তিন মাস পরে রেহানা তার বাবা মা ও ছোট বোনটার খোঁজ পায়। রেহানার বাবা আজ তাকে নিতে আসবে। সকাল থেকে গোসল করে নতুন তাতের শাড়ি পড়ে অপেক্ষা করছে তার বাবার জন্য। বিকেলের শেষভাগে কাশেম শিকদার রেহানার পুনর্বাসন কেন্দ্রে এসে পৌঁছায়। রেহানা তার বাবাকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। শেষ ট্রেন ধরতে হবে, তাই রেহানা তাড়াহুড়া করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিতে যাবে ঠিক তখনই সে জানতে পারে তার বাবা তাকে আজ নিয়ে যেতে পারবে না। রেহানার ছোট বোনটির সামনের কার্তিক মাসে বিয়ে। এ সময়ে রেহানাকে বাড়িতে নিলে বিয়েটি ভেঙ্গে যাবে। আবার শাহেদ এক গোছা ফুল নিয়ে তার সামনে দাঁড়ায়। এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিজয় দিবসের বিশেষ নাটক ‘আজ বাবা আসবেন’। 

আনিসুল হকের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন জুবায়ের ইবনে বকর। এতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি প্রমুখ। নাটকটি বিজয় দিবসে রাত ৮টায় বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিতে প্রচার হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ