আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ব্যাটারদের ক্রিজে টিকে থাকার দৃঢ় মনোভাব ও অনিচ্ছার অভাব ফুটে উঠেছে। চট্টগ্রাম টেস্টে ভারতের ৪০৪ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান করেছে বাংলাদেশ। খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়ায় এ অবস্থায় প্রথম টেস্ট বাঁচানো কঠিন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এখন ২৭১ রানে পিছিয়ে আছে টাইগাররা। ফলো-অন এড়াতে এখনও ৭২ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথের মতে ব্যাটারদের কোন টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল না। ক্রিজে টিকে থাকতে কৌশলগত উপায় অবলম্বন করেনি এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এজন্য প্রতিটি টেস্ট ম্যাচে হারের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। আজ হেরাথ বলেন, ‘ক্রিকেটের কথা এলে আপনাকে সবসময় কৌশলী হতে হবে। আপনি একজন বোলার বা ব্যাটার হতে পারেন কিন্তু ক্রিজে থাকার জন্য আপনার সেই মানসিকতা থাকতে হবে। এটি সবসময় আপনার মন ও হৃদয় থেকে আসা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ভুল সামর্থ্য বা দক্ষতার কিছু নেই। আমি বলেছি, আমাদের এটির জন্য আরও কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে এবং ক্রিজে আরও লড়াই করতে হবে। আপনি সেখানে একবার কিছু সময় কাটালে পরিস্থিতি সহজ হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের টিকে থাকতে হবে এবং সেসব সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ও আমি আমাদের ছেলেদের কাছ থেকে এমনটাই আশা করি।’
হেরাথের মতে, আড়াই সেশনে আট উইকেট হারানো সত্ত্বেও টেস্ট বাঁচানোর সুযোগ আছে বাংলাদেশের যদি তারা নিজেদের আরও বেশি উজাড় করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আট উইকেট হারানো হতাশাজনক। কিন্তু আপনি জানেন টেস্ট ক্রিকেটে আরও তিন দিন বাকি। আমাদের সেখানে টিকে থাকতে হবে এবং আমাদের কঠোর লড়াই করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেট সহজ নয়। সবসময়ই আপনার সামর্থ্য, আপনার মানসিকতা, আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা করা হয়। এজন্য আপনাকে আরও বেশি কঠোর লড়াই করার মনোভাব থাকতে হবে।’
প্রথম দিনর প্রথম সেশনে ৪৮ রানে ভারতের ৩ উইকেট শিকার করে শুরুতেই এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু সেখান থেকে ব্যাটারদের ধৈর্যশীল ব্যাটিং ভারতকে লড়াইয়ে ফেরায়। হেরাথ বলেন, 'লড়াইয়ে টিকে থাকতে কিছু পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশকে। আমরা কিছু পরিস্থিতিতে মোমেন্টাম পেয়েছি। কিন্তু কিছু সময়ে সেগুলো হারিয়েও ফেলছি। আমি মনে করি না এটি কৌশলগত, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
হেরাথ বলেন, ‘অশ্বিন এবং কুলদীপের জুটি প্রভাব ফেলেছে। এক পর্যায়ে ভারতের রান ৩ উইকেটে ৪৮ ছিলো। ঋষভ ও পূজারার জুটি, পরে পূজারা-আইয়ারের জুটি হয়। টেস্ট ক্রিকেটে এ ধরনের জুটি দরকার। আপনি যদি পূজারার ইনিংসটি দেখেন, ৯০ রান করেছেন। দৃঢ় মনোভাব নিয়ে অনেকগুলো বল খেলেছেন তিনি। তাই টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আমাদের আরও বেশি জুটির দরকার রয়েছে।’
