ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আলোচিত কাউছার হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, আসল ঘটনা আড়ালে রেখে সঠিক তদন্ত না করে শুধু আসামির দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে পুলিশের করা সংবাদ সম্মেলন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের দাবি, একা ঐ কিশোরের পক্ষে কাউছারকে হত্যা করা সম্ভব নয়, এই হত্যার সঙ্গে অবশ্যই আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত, এ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করে আসল ঘটনা উদঘাটন পাশাপাশি হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।
গত ২৬ নভেম্বর বেলা ১০টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের জাকেরেরশুরা ভাঙ্গার মাথা এলাকায় পদ্মানদীর পাড়ে বালুর স্তূপের ওপর বালু ব্যবসায়ী মো. কাউছার খানের (৪৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে চরভদ্রাসন থানাপুলিশ। কাউছার সদর ইউনিয়নের এমকে ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মৃত জালাল খানের মেজো ছেলে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি মাটি টানার ট্রলি, বালু ও কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পরপর হত্যায় জড়িত দুই আসামি সাফাওয়াত ইসলাম সিফাত (১৬) ও তার পিতা মো. শাহীন মোল্যাকে (৫০) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান বলেন, নিহত কাউছারের সঙ্গে আসামি সিফাতের সমকামিতার সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সিফাতকে মোবাইল ফোনে খবর দিয়ে বলাৎকার করার উদ্দেশ্যে ঐ স্থানে নিয়ে যায় কাউছার। এতে সিফাত রাজি না হওয়ায় দুই জনের মধ্যে বাগিবতণ্ডার এক পর্যায়ে সিফাত কাউছারের হাতে থাকা চাকু ছিনিয়ে নিয়ে কাউছারের গলায় আঘাত করলে সে বালুর ওপর পড়ে যায়। পরে সিফাত তার পিঠের ওপর বসে তার গলা ও ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং কাউছারের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও চাকু নিয়ে পালিয়ে যায়। এই হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সিফাতকে সহযোগিতা করেন তার বাবা শাহীন মোল্যা।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে কাউছারের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, গত ২৬ নভেম্বর তার স্বামী খুন হয় এবং ২৭ নভেম্বর দুই জন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামির মনগড়া বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে পুলিশ যে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার সঙ্গে আমরা একমত নই। মৃত ব্যক্তির ওপর কলঙ্ক চাপিয়ে কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলে মনে হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে কাউছারের সত্তরোর্ধ্ব মা কুলছুম বেগম বলেন, আমার ছেলে হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি চাই। কাউছরের ভাই লিয়াকত খান বলেন, আমার ভাই খুনের ঘটনায় যে আসামিকে ধরা হয়েছে তার একার পক্ষে এই খুন করা সম্ভব নয়।
