নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫২তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবসটি ঘিরে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ছিল ব্যাপক উৎসব আয়োজন।
দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। দূতাবাস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভারতের চন্ডিগড় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু হল মিলনায়তনে মান্যবর হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বানী পাঠ করে শোনান দূতাবাসের মিনিস্টার (বাণিজ্য) ড. এ কে এম আতিকুল হক, দূতাবাসের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহকারী উপদেষ্টা এস এম রাগিব সামাদ। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বানীও পাঠ করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন মিনিস্টার (কনস্যুলার) সেলিম মো. জাহাঙ্গীর।
হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, জাতি হিসেবে আমরা সৌভাগ্যবান। কারণ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো কালজয়ী নেতা মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোলমডেল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। মহান বিজয় দিবসের চেতনাকে ধারণ করে আমরা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
পরে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নিহত সকল শহীদ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিত অনুষ্ঠানেও হাইকমিশনার বক্তব্য রাখেন। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ।
