আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ দলে ‘মার্টিনেজ’ আছেন তিন জন। গোলরক্ষক এলিমিয়ানো মার্টিনেজ, ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো মার্টিনেজ ও ফরোয়ার্ড লাওতারো মার্টিনেজ। এই তিন জনের বাইরে আর্জেন্টিনার সঙ্গে আরো একজন মার্টিনেজ আছেন। চাইলে সেই ‘চতুর্থ’ মার্টিনেজকে আর্জেন্টিনা দলের ‘২৭’ নম্বর সদস্যও বলতে পারেন। তিনি হলেন সোফিয়া মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় নারী সাংবাদিক।
কাতার বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা দলের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা কতটা জনপ্রিয় সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট, ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার! সংখ্যাটা এখন বাড়ছে তরতর করছে। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে জিতে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠার পর টানেলে লিওনেল মেসির ছোট্ট যে সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলেন, তারপর থেকে বিশ্বব্যাপী সোফিয়ার জনপ্রিয়তা ও পরিচিত হুহু করে বাড়ছে! পেয়ে গেছেন তারকা খ্যাতি। সর্বত্র হচ্ছে আলোচনা। বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি এখন আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের মতোই পরিচিত মুখ। কথার জাদুতে যিনি লিওনেল মেসির মতো ফুটবলের জাদুকরের চোখের জল টেনে নামাতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা-সোরগোল তো হবেই।
সেদিন ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে টানেলে ছোট্ট যে সাক্ষৎকারটা নিয়েছিলেন সোফিয়া, তা সবারই জানা। বিশ্বের প্রতিটা দেশের গণমাধ্যমেই সোফিয়ার নেওয়া মেসির আগেই আবেগময়ী সাক্ষাৎকারের কথা উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ ছাপা হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাকেও। তারপরও প্রশ্নটা জাগেই, সোফিয়া কি এমন কথা বলেছিলেন যে, মেসি কেঁদে ফেলেন, তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল!
সোফিয়া কি বলেছিলেন, সেটা জানার আগে একটা বিষয় মনে রাখাটা জরুরী। এমন একটা ধারণা প্রচলিত, মেসি যতদিন না একটা বিশ্বকাপ জিততে পারবেন, আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে ততদিন ডিয়েগো মারাদোনার সমতুল্য হতে পারবেন না! সেই ধারণাটি যে ঠিক নয়, সোফিয়া সেটিই বলেছেন মেসিকে, ‘আমি শেষবারের মতো আপনাকে একটাই কথা বলতে চাই। না, কোনো প্রশ্ন নয়। আমি শুধু বলতে চাই সামনে বিশ্বকাপের ফাইনাল। আমরা সবাই (আর্জেন্টাইনরা) সত্যিই বিশ্বকাপটা জিততে চাই। আমি আপনাকে শুধু বলতে চাই, ফাইনালের ফলাফল যাই হোক, একটা জিনিস আপনার কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনার নামটি আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হয়। দেশের প্রতিটা মানুষের হূদয়ে আপনি আছেন। আর্জেন্টিনায় এমন একজন শিশুও নেই, যে আপনার নামের জার্সি কিনেনি বা পরেনি! তা সেই জার্সিটি আসল হোক, নকল হোক বা অন্য কেউ বানিয়ে দিক।’
সোফিয়ার কণ্ঠে কথাগুলো শুনেই আনন্দ-আবেগে টানেলেই কেঁদে ফেলেন মেসি। কে জানে, মেসি হয়তো সেদিন নতুন করে আরেকবার মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছেন, যে করেই হোক ফাইনালে জিতে দেশবাসীকে বিশ্বকাপ উপহার দিতেই হবে। বিশ্বকাপের চেয়ে ভালোবাসার বড় প্রতিদান আর কি হতে পারে!
