সেরা করদাতা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

টানা ১৪ বারের মতো সেরা করদাতা জর্দা ব্যবসায়ী কাউছ মিয়া

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:৪২

টানা ১৪ বার সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন পুরান ঢাকার হাকিমপুরী জর্দার মালিক ও ব্যবসায়ী মো. কাউছ মিয়া। ২০২১-২২ করবর্ষে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে মো. কাউছ মিয়ার পাশাপাশি খাজা তাজমহল, ফজলুর রহমান, এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসানকে সেরা করদাতা নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ পাঁচজনসহ আরও ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ট্যাক্স কার্ড-প্রাপ্তদের সেরা করদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) এনবিআর সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

চাঁদপুর জেলার রাজরাজেশ্বর গ্রামে (ব্রিটিশ আমলের ত্রিপুরা) ১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন কাউছ মিয়া। বাবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ১৯৫০ সালে চাঁদপুরের পুরান বাজারে মুদি দোকান দেন। পরে ধীরে ধীরে ১৮টি ব্র্যান্ডের সিগারেট, বিস্কুট ও সাবানের এজেন্ট ছিলেন। এরপর ২০ বছর তিনি চাঁদপুরেই ব্যবসা করেন। ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন এবং তামাকের ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে প্রথম কর দেন তিনি। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকারের সময় প্রথমবারের মত শীর্ষ করদাতা হন কাউছ মিয়া। গত গত ৬১ বছর যাবত কর দিয়ে আসছেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে তিনি দেশে ব্যবসায়ী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন। এছাড়াও মুজিববর্ষের সেরা করদাতা হিসেবেও বিশেষ সম্মাননা পান তিনি। বর্তমানে ৪০-৪৫ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। তবে তার মূল ব্যবসা তামাক বেচাকেনা।

এছাড়া, ২০২১-২২ করবর্ষে সেরা করদাতার তালিকায় জাতীয় পর্যায়ের ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। ট্যাক্স কার্ডের মেয়াদ থাকবে একবছর। কার্ডপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। সংশোধিত জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা ২০১০ অনুসারে এসব কার্ড দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্স কার্ডধারীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। সড়ক, বিমান, নদীপথে ভ্রমণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট পাবেন। হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন। বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ট্যাক্স কার্ডধারী ব্যক্তি ও তার পরিবার চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শয্যাসুবিধা পাবেন।

সারা দেশের করদাতাদের কর পরিশোধ খতিয়ে দেখে ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৬ জন এবং কোম্পানি পর্যায়ে ৫৩ জনকে এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ১২ জনসহ মোট ১৪১ জনকে সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময়ের সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ের সেরা করদাতাদের আঞ্চলিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।


ট্যাক্স কার্ডের জন্য নির্বাচিতরা

গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সেরা করদাতারা হলেন— এ মতিন চৌধুরী, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, মো. আমজাদ হোসেন, মো. জয়নাল আবেদীন, লে. জেনারেল আবু সালেহ মো. নাসিম (অব.)।


প্রতিবন্ধী তালিকায় রয়েছেন— আকরাম মাহমুদ, ডা. মামুনুর রশিদ ও  লুবনা নিগার।

খেলোয়াড় তালিকায় রয়েছেন— সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল খান ও  কাজী নুরুল হাসান (সোহান)।

অভিনেতা-অভিনেত্রী তালিকায় রয়েছেন— মাহফুজ আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, পীযূষ ব্যানার্জী।

শিল্পী তালিকায় রয়েছেন তাহসান রহমান খান, এস ডি রুবেল, কুমার বিশ্বজিৎ।

নারী করদাতার তালিকায় রয়েছেন— আনোয়ারা হোসেন, আমিনা আহমেদ, শাহনাজ রহমান, তাসমীন মাহমুদ ও পারভীন হাসান।

চিকিৎসক তালিকায় রয়েছেন— জাহাঙ্গীর কবির, একেএম ফজলুল হক, প্রাণ গোপাল দত্ত, নার্গিস ফাতেমা ও  এন এ এম মোমেন্জ্জুামান।

তরুণ করদাতার তালিকায় রয়েছেন— সাফওয়ান সোবহান, আফিস ইকবাল মাহমুদ, নাসিরুদ্দিন আকতার রশীদ, রাইসা সিগমা হিমা ও  রবিন রাজন সাখাওয়াত।

ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছেন— গোলাম দস্তগীর গাজী, এস এম আশরাফুল আলম, এস এম শামছুল আলম, মাহবুবুর রহমান ও  গাজী গোলাম মুর্তজা।

বেতনভোগী তালিকায় সেরা করদাতারা হলেন— মোহাম্মদ ইউসুফ, রুবাইয়াৎ ফারজানা হোসেন, হোসনে আরা হোসেন, লায়লা হোসেন, এম এ হায়দার হোসেন।

সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন— ফরিদুর রেজা, মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান, শাইখ সিরাজ, নঈম নিজাম।

আইনজীবী তালিকায় রয়েছেন— শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, তৌফিকা আফতাব, নিহাদ কবীর ও  আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।

প্রকৌশলী তালিকায় রয়েছেন— মো. জহুরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান ও  মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

স্থপতি তালিকায় রয়েছেন— মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, এনামুল করিম নির্ঝর ও  ইয়াসেফ ওসমান।

অ্যাকাউন্টেট তালিকায়— মাশুক আহমেদ, মো. মোক্তার হোসেন ও  রাকেশ সাহা।

সিনিয়র সিটিজেন করদাতারা হলেন— কাউছ মিয়া, খাজা তাজমহল, ফজলুর রহমান, এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ ও খন্দকার বদরুল হাসান।

নতুন করদাতা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন— এরিক এম ওয়াকার, ওবায়দুল ইসলাম কিরণ, নাজমা আক্তার, লুইস এনরিক মায়োরগা মনকাডা, জুমারা বেগম, সাকেব মোহাম্মদ আলী ও সাদরুদ্দিন আহসান আলী।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার, মো. মনির হোসেন ও  নাফিস সিকদার।

প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সেরা করদাতা

ব্যাংকিং খাত থেকে সেরা করদাতার নাম রয়েছে— স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লি. ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের।

অব্যাংকিং আর্থিক খাতের ইনফ্র্যাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্র্যাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লি.।

টেলিযোগাযোগ খাতে সেরা কর দাতা হচ্ছে গ্রামীণফোন।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক  তালিকায় রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ ডেইরি, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের নাম।

প্রকৌশল খাতে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, যমুনা ওয়েল কোম্পানি ও পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড।

পাটশিল্পে সেরা কর দাতার মর্যাদা পেয়েছে- আকিজ জুট মিলস, আইয়ান জুট মিলস ও রোমান জুট মিলস লিমিটেড।

স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে- কোটস বাংলাদেশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, নাহিদ কটন মিলস, এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ), বাদশা টেক্সটাইলস, অ্যাপেক্স টেক্সটাইলস ও এন. জেড. টেক্সটাইল লিমিটেড।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা ও বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া- মিডিয়াস্টার, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ, সময় মিডিয়া ও টাইমস মিডিয়া লিমিটেড।

আবাসন খাতের সেরা করদাতার মর্যাদা পেয়েছে— বে ডেভেলপমেন্টস, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াল লিমিটেড।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ