সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিংয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। বলেছেন টাইগারদের উচিৎ চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং অনুসরণ করা। প্রথম ইনিংসের দূর্বল ব্যাটিংয়ের কারণে চট্টগ্রামের টেস্টে ১৮৮ রানে পরাজিত হয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ভারতের ছুড়ে দেয়া ৫১৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশীদের ব্যাটিং ছিল অনেক বেশী ইতিবাচক। ৩২৪ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।
আগামীকাল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু যে সিরিজে ড্র করার জন্য তা নয়, বরং মনোবল চাঙ্গা রেখে বছর শেষ করার বিষয়টিও রয়েছে। ডোনাল্ড বলেন,‘আমরা জিততে চাই। ভারতের বিপক্ষে আপনি কোথায় খেলছেন সেটি বিবেচ্য নয় বরং এটিকে আপনি আপানার অর্জনের শীর্ষ স্থানে রেখেছেন। আমরা জানি ১৫০ রানের মত দল আমরা নই। আমরা আমাদের জুটি গড়ার গুরুত্বের কথা বলছি। আমাদের আরো বেশী ধৈর্যশীল হতে হবে। যা আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে দেখিয়েছে। জয়ের জন্য আমরা মরিয়া। আমিসহ দলের অনেক সদস্য রয়েছে যারা একটি স্বস্তি নিয়ে বড়দিন কাটাতে বাড়ী যেতে চায়।’
তিনি বলেন,‘ আপনি কাজে লাগানোর ভালো একটি সুযোগ পেয়েছেন। টস জিতলে আশা করি প্রথমে ব্যাটিং নিবেন এবং ৩৫০ থেকে ৩৮০ রান তুলবেন। আমি প্রথম ইনিংসে আনুমানিক সংগ্রহের কথা বলছি করছি। পিচ মোটামুটি শুষ্ক মনে হচ্ছে। সুতরাং প্রথম ইনিংসকেই কাজে লাগাতে হবে। টেস্টে প্রথম ইনিংসে নিজেকে সেট করার এটিই হবে সেরা সুযোগ।’
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিষিক্ত জাকির হাসান। তিনি প্রমাণ করেছেন ইতিবাচক মানষিকতা সবসময় যে কোন কন্ডিশনে কাজ দেয়। ওই ইনিংস প্রসঙ্গে টাইগার কোচ বলেন,‘ দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ছিল পরিকল্পনামত। জাকির অনেককেই চমকে দিয়েছে। জাকিরকে আমি এই প্রথম দেখেছি। তার মনোভাব, সাহসিকতা এবং আগ্রাসী মনোভাব আমার পছন্দ হয়েছে। সে খেলতে এসেছে। সে প্রমাণ করেছে যে সেরা বোলারদের মোকাবেলা করতে পারে। সে নিজেকেও সহায়তা করেছে।’
তবে প্রথম টেস্টে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করায় হতাশ ডোনাল্ড। বলেছেন ভারতের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের সুযোগ নিতে চাইলে ফিল্ডিং আরো তীক্ষ্ণ হতে হবে। ডোনাল্ড বলেন,‘ মাত্র ৪৮ রানে ভারতের তিন উইকেট তুলে নিয়ে আমরা নিজেদের বোলিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছি। তবে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এই পর্যায়ের খেলায় যেটি কোনভাবেই কাম্য নয়।’
স্বাগতিক কোচ বলেন,‘ যখন এরকম সুযোগ আসবে তখন অবশ্যই সেটি গ্রহণ করতে হবে। এবাদত যে ক্যাচটি ফেলে দিয়েছিল, সেরকম ভুল আমরা করতে পারিনা। এ বিষয়ে আপনাকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। সামান্য সুযোগও কাজে লাগাতে হবে। এটিই টেস্টের নৃশংসতা। এসব বিষয়ে আমাদের আরো তীক্ষ্ণ হতে হবে।’
