বিশ্বকাপ জিতে সোমবার রাতে আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রেখেছেন লিওনেল মেসিরা। দেশে ফেরার পর থেকেই বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দল ভাসছে বরণ-সংবর্ধনায়। সোমবার রাতে পৌঁছানোর পরই রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ছাদখোলা বাসে চড়িয়ে রাজসিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় বিশ্বকাপজয়ী বীরদের। রাজধানীতে বিশ্বজয়ী মেসিদের বরণ করে নেয় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। বুয়েনস আইরেসে লাখো মানুষের বরণ-সংবর্ধনা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মেসি গতকাল বুধবার ছুটে যান জন্ম শহর রোজারিওতে। সেখানেও মেসি পেয়েছেন বীরোচিত সংবর্ধনা।
শুধু মেসি একা নন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী দলের আরেক সদস্য, ফাইনালের অন্যতম নায়ক আনহেল ডি মারিয়ার জন্মও রোজারিওতে। ফলে রোজারিওর মানুষ এই দুই নায়ককেই হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় বরণ করে নিয়েছে। রোজারিও শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই দুই ‘বিশ্বজয়ী বীরকে’ শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয় হাজার হাজার মানুষ। শহরের এই বরণঅর্ঘ্য শেষে মেসি-ডি মারিয়া ধরেন যার যার বাড়ির পথ। বিমান নয়, এবার তাদের বহন হয় গাড়ি। মেসিকে বহনকারী গাড়ি যখন তার বাড়ির দিকে ছুটে, রাস্তার দুই পাশে হাজারো জনতার ঢল নামে। সবাই হাত নেড়ে, পতাকা উড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান তাকে। সবার মুখেই ছিল ‘ওলে, ওলে, লিও লিও’ স্লোগান। ফাঁকে ফাঁকে শোনা যায় ‘এগিয়ে যাও চ্যাম্পিয়ন’ স্লোগানও।
তার বাড়ির আঙিনাতেও ভিড় জমিয়েছিলেন হাজারো মানুষ। যেখানে তাকে বিশেষভাবে বরণ করে ঘরে তোলা হয়েছে। বিশ্বজয়ী মেসিকে বাড়িতে বিশেষভাবে বরণ করার মূল পরিকল্পনাটা করেছিল তার পরিবার। মেসি কাতারে থাকতেই তার স্ত্রী-সন্তান এবং মা ব্যক্তিগত বিমানে চেপে সরাসরি রোজারিওতে নিজেদের বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে গিয়ে তারা প্রস্তুতি নেন মেসিকে বিশেষ মর্যাদায় বরণ করে নেওয়ার।
গাড়ি থেকে নামতেই তাকে জড়িয়ে ধরেন তার মাসহ অপেক্ষারত মানুষ। কেউ জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলেন, কেউ দিতে থাকেন স্লোগান। স্লোগান, করতালির শব্দে মেসিদের রোজারিওর ছোট্ট বাড়িটি হয়ে উঠে বিয়ে বাড়ি! হয়েছে নাচ, গান, চলেছে মিষ্টিমুখও। বুয়েনস আইরেস থেকে রোজারিও শহর হয়ে নিজ বাড়ি, পুুরো পথেই মেসির সঙ্গে ছিল বিশেষ নিরাপত্তা টিম। কিন্তু জনতার ঢল থেকে তারা মেসিকে আলাদা রাখতে পারেননি। নিরাপত্তাকর্মীদের বেষ্টনী ছিঁড়ে ঠিকই মেসিকে কাছের মানুষদের পরম ভালোবাসার স্রোতে মিশে যেতে হয়েছে।
