জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়ার দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সাইফুল ইসলাম তুহিনকে সিলেট থেকে ও মো. নাঈম হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে।
সিটিটিসি ইউনিট জানায়, পাহাড়ি উগ্রবাদী সংগঠন কুকি-চিনের সাহায্যে নতুন জঙ্গি সংগঠনটি পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরি করেছিল। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে অনেক সদস্য গ্রেফতার হয়, অনেকে দলে দলে ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ে অবস্থান নেয়। আবার কেউ-কেউ সমতলে ফিরে আসার চেষ্টা করে। এমনই দুজনকে প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। এ দুজন পাহাড়ের ক্যাম্পে প্রায় এক বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। নতুন জঙ্গি সংগঠনটির প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অনেকে স্বেচ্ছায় গেলেও অনেককে আবার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে গিয়ে অনেকেই ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শত চেষ্টা করেও সেখান থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রধান শামিন মাহফুজ ও তার পরিবারের সন্ধান জানতে কাজ করছে সিটিটিসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম সিলেট থেকে চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর ‘হিজরতের’ উদ্দেশ্যে বের হন। তিনি একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। সেখানের একজন ইমামের মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘হিজরতে’ যান। তবে ‘হিজরতে’ গিয়ে কী করবেন তা জানতেন না তিনি। ‘হিজরতের’ উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাসে সাইফুলসহ তিন জন প্রথমে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আরও চার জন ‘হিজরতকারীর’ সঙ্গে দেখা হয় তাদের। পরে সবাই তারা বাসে করে বান্দরবানের দিকে রওয়ানা হন। রাস্তায় তাদের ফোন ও বাসা থেকে নিয়ে আসা টাকা সংগঠনটির এজেন্টরা নিয়ে নেয়। এরই মধ্যে তাদের চুল ও দাড়িও কেটে ফেলা হয়। পরে সাইফুল ইসলাম বান্দরবানে গিয়ে দেখেন তাদের সঙ্গে একই বাসে আরও ১০ জন ‘হিজরতকারী’ এসেছিলেন। বান্দরবান থেকে তারা থানচি যান, সেখান থেকে এক রাতে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রথম প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পৌঁছান।
