শুরু হলো ছায়ানটের দুদিনের শুদ্ধ সংগীত উৎসব। দেশের তরুণ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে রাগ মুলতানি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো এ উৎসব। ছায়ানটের আয়োজনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুদ্ধ সংগীতের ওস্তাদ, শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা এসে জড়ো হয়েছেন ঢাকায়। উৎসবে ২৮ শিল্পীর একক পরিবেশনা থাকবে। ২০০ শিল্পী ও কলাকুশলী অংশ নিচ্ছেন।
শুদ্ধ সংগীতের প্রতি আগ্রহ তরুণদের মাঝে কমে এসেছিল। ছায়ানট সেই ধারাকে বেগবান করতে সবসময় শুদ্ধ সংগীতের প্রশিক্ষণ চর্চা অব্যাহত রেখেছে। গত ১৬ বছর ধরে তারা সারা দেশের শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করছে এ উৎসব। তিনটি অধিবেশনে সাজানো দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। চলবে আজ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত। এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে সংগীতগুরু মিথুন দে’কে। গতকাল সন্ধ্যায় ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে শুদ্ধ সংগীতের ১৬তম এই আসরের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। স্বাগত ভাষণ দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা।
লিসা সবাইকে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগীতের সুধায় প্রাণে প্রাণে মিলন ঘটিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করি। নিজেকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করি। তিনি জানান, দুদিনের এ উৎসবে কণ্ঠসংগীত, সেতার, বাঁশি, তবলা ও সারেঙ্গী পরিবেশনা থাকবে।
গতকাল উৎসবের সমবেত পরিবেশনার পর মূল পর্বের শুরুতেই ছিল ঢাকার শিল্পী দীপ্তি সমাদ্দার দীপুর খেয়াল পরিবেশনা। তিনি পুরিয়া রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। এরপর এবাদুল হক সৈকতের সেতার বাদন। এরপর সৌমিতা বোস মারবা রাগের ধামার গেয়ে শোনান। শুধ কল্যাণ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন সিলেটের পারমিতা মুমু। সবশেষে তবলার লহরা বাজিয়ে মন মাতান কুমার প্রতিবিম্ব।
আজ শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টায়, চলবে একটানা বেলা ১২টা পর্যন্ত। এরপর তৃতীয় অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। রাত জুড়েই গাইবেন শিল্পীরা।

