রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মরণোত্তর চক্ষুদানে উত্সাহিত করতে বৈজ্ঞানিক সেমিনার

রক্ত ও কিডনি দানের চেয়েও কর্নিয়া দান সহজ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩৯

মৃত্যুর পর একজন মানুষ চোখের ছোট্ট একটি অংশ (১২ এমএম) কর্নিয়া দানের মাধ্যমে একজন অন্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরেও একজন মানুষ অন্ধ মানুষের জীবনব্যাপী চোখের আলো হয়ে থাকতে পারেন। কর্নিয়া দান করলে মৃত্যুর পর চেহারার কোনো বিকৃতি ঘটে না। ধর্মীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো নিষেধ নাই। ইরানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও সবাই মৃত্যুর পর চক্ষুদানের অঙ্গীকার জীবিত থাকা অবস্থাতেই করে থাকেন। কর্নিয়া দান করা, রক্তদান ও কিডনি দান করার থেকেও সহজ একটি প্রক্রিয়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে ‘ক্যারাটোপ্লাস্টি অ্যান্ড আই ডোনেশন : বাংলাদেশ পারসপেকটিভ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিএসএমএমইউয়ের বাংলাদেশ কর্নিয়া অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিসিআরএস) ও সন্ধানী আই ব্যাংক (আই হাসপাতাল) যৌথভাবে মরণোত্তর চক্ষুদানে উত্সাহিত করতে এ সেমিনারের আয়োজন করে। ‘আপনার চোখের কর্নিয়া দান করে মৃত্যুর পরেও অন্ধ মানুষের জীবনব্যাপী চোখের আলো হয়ে থাকুন’ স্লোগান সামনে নিয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বহুদিন থেকে আমি সন্ধানীর সঙ্গে জড়িত। আমি সন্ধানীর প্রথম চক্ষু উত্তোলন করেছি। ৩৮ বছরে ৪ হাজার চক্ষুদান করার সুযোগ পেয়েছে সন্ধানী।’ তিনি বলেন, ‘সন্ধানীসহ চক্ষুদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমরা ঠিক কতটি চক্ষুদান করতে পারব, তা নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য জনসচেতনতার বিকল্প  নেই। এক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যম বিরাট অবদান রাখতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে কৃষকদের কর্নিয়ায় রোগের সংখ্যা একটু কমেছে। ধান ও পাট কাটার সময় কৃষকদের চোখে চশমা পরতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সন্ধানীর মতে, দেশে ৬ হাজার মানুষ চক্ষু সংযোজনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার জন এখন কর্নিয়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে ভুগছে। তাদের চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করলে দৃষ্টি ফিরে পাবে। তবে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে চক্ষুদান করার প্রবণতা নেই বললেই চলে। বিদেশ থেকে আমদানি করে অন্ধ মানুষের চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। সন্ধানীর মাধ্যমে অল্প কিছুসংখ্যক কর্নিয়া পাওয়া যায়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্নিয়া দানের উত্সাহ সৃষ্টি করতে ব্যাপক জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সন্ধানী ন্যাশনাল আই ডোনেশন সোসাইটি এবং সন্ধানী ইন্টারন্যাশনাল আই ব্যাংক, বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. তোসাদ্দেক হোসাইন সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন বিসিআরএস-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের। সেমিনারে হাউ টু ইনভলব দ্য হোল নেশন ইন আই ডোনেশন-আওয়ার রেসপনসিবিলিটি শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভান্সমেন্ট ইন ক্যারাটোপ্লাস্টি : নিউ ইনসাইটস শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. শাফি খান এবং ডা. মো. জয়নাল ইসলাম সন্ধানী—দ্য টর্চ বেয়ারার অব আই ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমএএম