ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস অবশেষে তার ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে বাকিংহাম প্যালেস থেকে চিরতরে বের করে দিয়েছেন। রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সংবাদ মাধ্যম মার্কা।
প্রতিবেদনে বলা হয়য়, ৬২ বছর বয়সী প্রিন্স অ্যান্ড্রু যৌন হয়রানির অভিযোগে এই বছরের জানুয়ারিতে তার রাজকীয় উপাধি হারান। মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইন ও জিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিন বছর আগে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে পদত্যাগ করেন অ্যান্ড্রু।
প্রাসাদ সূত্র জানায়, এখন থেকে রাজপ্রাসাদে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর জন্য কোনো রুম বা অফিস বরাদ্দ থাকবে না। প্রয়াত রানি এলিজাবেথ তার ছেলে অ্যান্ড্রুকে প্রাসাদ ব্যবহারের অলিখিত অনুমতি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
২০২০ সালে রাজপরিবার থেকে পদত্যাগ করার পর, প্রিন্স অ্যান্ড্রু সীমিত কর্মীদের সঙ্গে প্রাসাদে তার অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু অ্যান্ড্রু আর তার ভাইয়ের শাসনামলে বাকিংহাম প্যালেসকে তার ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না।
প্রাসাদের সূত্র জানিয়েছে, প্রাসাদে সমস্ত উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। রাজা এটি সাফ করে দিয়েছেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজকীয় দায়িত্বে নেই। এখন তিনি একাই আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নিপীড়নের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় অ্যান্ড্রুর এমন খারাপ অবস্থা। তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
৮ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যাওয়ার পর, তার ছেলে চার্লস তৃতীয় যুক্তরাজ্যের রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রানির স্বামী প্রিন্স ফিলিপ গত বছর ৯৯ বছর বয়সে মারা যান।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের চারটি সন্তান রয়েছে। চার্লস তৃতীয়, প্রিন্সেস অ্যান, প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও প্রিন্স এডওয়ার্ড। অ্যান্ড্রুকে তার মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও সামরিক ও রাজকীয় পোশাক পরতে দেওয়া হয়নি।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরপরই রাজা চার্লস তার ভাই অ্যান্ড্রুকে জানিয়ে দেন, তিনি আর রাজপরিবারে ফিরবেন না। গত মাসে রাজা তার ভাইয়ের নিরাপত্তাও তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।