গত বছরের মত এবারও আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর আলু চাষিদের। ফলন কম আর দাম না থাকায় বর্তমানে আলুতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না ফুলবাড়ীর আলু চাষিরা। তবে আগাম জাতের আলু চাষে আশানুরূপ করেছেন চাষিরা।
দুইজন কৃষি নারী শ্রমিক নিয়ে রোমানা ক্যারেড জাতের আলু জমি থেকে তোলার কাজ করছিলেন উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পলি শিবনগর গ্রামের আলু চাষি আব্দুর রহিম। ১৬ শতক জমিতে তার ৮০ কেজি ওজনের ২২ বস্তা আলু ফলন হয়েছে। বাজার দর অনুযায়ী এই আলুর দাম ২৩ হাজার ১০০ টাকা। অথচ ২২ বস্তা আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে প্রায় প্রায় ২৬ হাজার টাকা। প্রতি কেজিতে আলু উৎপাদন খরচ প্রায় ১৪ টাকা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এতে প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৩ মেট্রিক টন। এতে মোট উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন আলু।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্যারেড, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্রানুলা, এস্টারিকা, রোমানা, শিল বিলাতি, সাদা পাটনাই, লাল পাটনাই ও সেভেন জাতের আলু আবাদ হয়েছে। আলুর জাত ও ধরন অনুযায়ী আলুতে বীজের মূল্য এবং পরিচর্যা অনুযায়ী উৎপাদন খরচের বেশ তারতম্য রয়েছে। গ্রানুলা জাতের আলুতে প্রতি বিঘায় চাষাবাদ খরচ ২৮-৩০ হাজার টাকা এবং এস্টারিকা, রোমানা, শিল বিলাতি, সাদা পাটনাই, লাল পাটনাই ও সেভেন জাতের আলুতে ৩৫-৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
রাজারামপুর মাছুয়াপাড়া গ্রামের আলু চাষি রঞ্জিত দাস বলেন, ক্যারেড ও রোমানা জাতের আলু আবাদ করেছেন ২ বিঘা জমিতে। বাজার দর অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমিতে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে তাকে। অথচ এর আগে আগাম জাতের আলু এক বিঘা জমিতে আবাদ করে আশানুরূপ লাভ করেছেন। আগাম জাতের আলু ৮০ ওজনের এক বস্তা আলু দুই হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আলু বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা বস্তা দরে। আগাম জাতের আলুর উৎপাদন খরচ ২২ হাজার টাকা পড়লেও আলু বিক্রি হয়েছে ৪৭ হাজার টাকায়। এক বিঘা জমির আলুতে লাভ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।
উপজেলার আমডুঙ্গি, বারাইহাট, ফুলবাড়ী পৌর বাজার ও আটপুকুর এলাকার আলু চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি আলু আলু কিনছেন মতিয়ার রহমান নামের নাটোরের এক আলু ব্যবসায়ি। তিনি জানান, ক্যারেড, রোমানা, কার্ডিনালসহ সব জাতের আলুর দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা কমে বেচাবিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার সব এলাকাতেই আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে দাম কমে আসায় কৃষকদের লাভ একটু কম হলেও লোকসান হবে না।
