শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নতুন বছরে সবার প্রত্যাশা রাজনৈতিক সহনশীলতা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:৪৭

এক বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বভাবতই এই বছরটায় রাজনীতির মাঠ গরম থাকবে। তাই নতুন বছরে সবাই চান সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক সহনশীলতা।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমার প্রত্যাশা, স্থিতিশীলতা থাকুক, সহনশীলতা থাকুক। আগে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম তখন দুই দিন পরপর হরতাল হতো, এতে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হতো। এখন অনেকদিন হরতাল নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা নেই, পড়াশোনার পরিবেশ আছে। বাংলাদেশের মানুষতো সংঘাত দেখে অভ্যস্ত। ফলে সেই সংঘাতটা আর না থাকুক সেটাই তো আমার চাওয়া হবে। শিক্ষক হিসেবে আমার আরেকটি চাওয়া, নতুন বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন কারিকুলাম চালু হচ্ছে, এটা যেন সফল হয়। আমি যেন দেখি শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও চান রাজনীতিতে যেন সহিংসতা না বাড়ে। এক আলাপকালে তিনি বলছিলেন, ‘রাজনীতির ক্ষেত্রে যেন সহনশীলতা দেখা দেয়। রাজনীতি হল সবচেয়ে বড় ব্যাপার। সেখানে যদি সহনশীলতা দেখা দেয় সেটা আমাদের জন্য সুখকর হবে। এই সহনশীলতা সৃষ্টির জন্য উদ্যোগটা কিন্তু সরকারকেই নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে যাতে সহনশীলতা বাড়ে। যাতে সবার বক্তব্য উপস্থাপন করার সুযোগ ঘটে। যেসব রাজনৈতিক দল আছে তারা যেন প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে এবং তাদের যেন সেই সুযোগ থাকে।’

নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা। ছবি: ডয়চে ভেলে

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২২ সালে তো অর্থনীতির অনেকগুলো ঝুঁকি গেলো। সেই ঝুঁকি ২০২৩ সালেও থাকবে। মূল্যস্ফীতি হোক আর রফতানি হোক সব ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি থাকবে। অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ালে পারলে এগুলো থেকে বের হওয়া সম্ভব। সব ঝুঁকি তো আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক সুযোগগুলো আমরা যদি নিতে পারি তাহলে অনেক ঝুঁকি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। সুশাসনের সঙ্গে আমরা যদি কাজ করতে পারি তাহলে পরীক্ষাগুলোতে পাশ করা কঠিন হবে না।’

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন বছরে যেন জিনিসপত্রের দাম তাদের নাগালের মধ্যে থাকে। শ্যাওড়াপাড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম।

নতুন বছরের প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমি চাই নতুন বছরে জিনিসপত্রের দাম যেন কমে। আমি যে মাছ বিক্রি করি ৪০০-৫০০ টাকার নীচে কোন মাছ নেই। তাহলে গরীব মানুষ বাঁচবে কীভাবে? গত এক বছরের মধ্যে সব জিনিসের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়িভাড়া বেড়েছে। আমি যে ঘরে পরিবার নিয়ে আগে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতাম, এখন সেই ঘরের ভাড়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। খরচ তো বেড়েছে, আয় তো বাড়ছে না। আমাদের চলা কঠিন হওয়া যাচ্ছে।’

নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। ছবি: ডয়চে ভেলে

মোহাম্মদপুরের পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বছরে একটা ইনক্রিমেন্ট ছাড়া বেতন বাড়ছে না। অথচ দ্রব্যমূল্য যেভাবে বাড়ছে সেটা আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি ৬০ হাজার টাকা বেতন পেয়েও তিনজনের সংসার চালাতে পারছি না। গ্রামে বাবা-মাকে আগে মাসে চলার জন্য ৭ হাজার টাকা দিতাম। এখন ১০ হাজার টাকায় তাদেরও চলে না। সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমার প্রত্যাশা, নতুন বছরে অন্তত দ্রব্যমূল্যটা যেন কমে। সাধারণ মানুষ খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারে।’

কাওরান বাজারের চা বিক্রতা আবেদুর রহমান বেশ রাজনীতি সচেতন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম চাওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা যেন বন্ধ হয়। এই যুদ্ধটা অনেক ক্ষতি করে দিছে। আমাদের যে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে তার জন্য এই যুদ্ধ দায়ী। আর রাজনীতি নিয়ে আমার প্রত্যাশা, এক বছর পর তো নির্বাচন, ফলে এই এক বছর রাজনীতির মাঠ বেশ গরম থাকবে। তা থাকুক, কিন্তু রাজনীতির নামে মারামারি, খুনাখুনি যেন না হয়, শান্তিপূর্ণ ভোট হোক, যে দল ভোটে জিতবে তারা ক্ষমতায় আসুক। কিন্তু গাড়িতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর করা এমন কিছু যেন না ঘটে।’

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমীর কুমার দে। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

ইত্তেফাক/এএএম