বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প ঙ্ ক্তি মা লা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:২৬

নিউটনের সূত্র

দ্বীপ সরকার
 

নিউটনের সূত্র ধরে যদি প্রত্যেক গতি নিম্নগামী হয়
আমিই কেবল ঊর্ধ্বগামী কেন?

তুমি বলতেই পার—শতরঞ্জির ভেতর কে হাঁটে
আমিও বলি মশারি খুললে ফারাক্কা বাঁধ

কে কতটা ভুল বলি—কার ভুল সমতলে
মধ্যাকর্ষণ বলে সব ভুল মাইগ্রেট হয়ে নিচেই নিপতিত হয়
নিউটন ভাবেনি—মানুষের ভেতরে সব মানুষের যোগাযোগ সমান

[বগুড়া]

-----------------------------------

বাউশ বিল

ওসমান গণি
 

বহু বছর বেঁচেছিল তুষি মাঝিয়াল
কুঁড়ের গভীরতার সাথে
মাছদের বন্ধুত্ব দ্যাখে
আরশি চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল


ঢিবির চূড়ায় বাঁলিহাস চুরি হতো যখন
খোঁয়াড়ে শাসিয়ে যেত
বয়স্ক সবুজ কুমির।


বাউশ দিগন্তে ডানাভাঙা পাখির উড়ালে
তৎক্ষণাৎ অবচেতন হই, নতুন ব্যথায়
সমস্ত ভিজে দোঁয়াশ মাটি অস্তিত্ব মোড়ে দেখি একি!
আমার পূর্বপুরুষের মণিচিহ্ন।

[ব্রাহ্মণবাড়িয়া]

-----------------------------------

স্মৃতির আড়ালে

বদরুল হায়দার


স্মৃতির আড়ালে মুখ লুকিয়ে প্রীতির ঘরে জেগেছে সকাল।
ফলত গাছের চোখ ঝুল-বারান্দার তারে চক্ষুশূল মশগুলে
শত সাধনায় তৈরি করে মহাকাল।
সোনার বরণ পাখি প্রাণের উদাহরণ শেষে
বারণ ও কারণের দোষে অবকাশে হারায় যৌবন।
বেলাশেষে বিচ্ছিন্নতার মনোবিকাশে চোখের আগাম
দূরাভাষে তুমি হতাশা পোষণ করো বিনাচাষে।
মেয়াদপূর্তির চুক্তিসহ বিনিয়োগ প্রযুক্তির
অচল তুলনা চলে লাইফ-স্টাইলে। তোমার ছলনা
আড়ি পেতে বসে থাকে মনে।
নীলনকশার ব্যর্থতায় শঙ্কামুক্ত থেকেছি গোপনে।
তুমি যৌথ অভিমানে মনের ট্রাইব্যুনালে জারি করো
খেলাপি প্রেমের বাণী।
প্রবণতা বাড়ছে প্রেম ও দাসত্বের।
চলছে পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস।
অকাতরে ঘরে ঘরে চলে বাঁক বদলের প্রাইভেট।
কর্তৃত্ব তোমার ছলনায় বাসা বাঁধে প্রাণে।
তুমি প্রেমের ডিজিটে ফ্রি-ইন্টারনেটে টেনে আনো গ্লানি।
আমি স্মৃতির আগুনে পুড়ে হই বেদনা সন্ধানী।

-----------------------------------

চাঁদ-জোছনার গল্প

মুস্তফা হাবীব


মানুষ বাঁচার জন্য সহস্র স্বপ্ন বোনে,
চায় ঘর-সংসার, স্বজনদের নিরাপদ বেষ্টনী,
সুবাতাস এবং শস্যদানার পাশাপাশি
ফুল পাখি, বৃক্ষের শোভা।

এসব পেলে বেড়ে যায় স্বপ্নের বিস্তার
আরো অনেক কিছু চায়—
হয়তো হতে চায় দেবদূত,
নয়তো এক সাম্রাজ্যের মহান অধিপতি।

মানুষ হয়েও থাকতে চায় না মানুষের কাতারে
ভুলে যায়, চাঁদ-জোছনার সম্পর্ক
ক্ষমতায় কিনে নেয় নদী ও পাহাড়।

-----------------------------------

আরাধনা

জহুরুল ইসলাম


করতলে সবুজ আগুন,
সে তো ইচ্ছেমতো পাঠ করে রাতদিন।
ওখানে শুয়ে থাকে বেশরম রোদ,
বয়ে যায় বেহুশ বাতাস।

এখন হেমন্তের সোনালি আগুন,
এ আগুনে শান্তি নামে কুয়াশার মতো।
ইচ্ছেরা ডানা মেলে—যেন প্রজাপতি।

উঠোনের ধারে কে যেন ডুবে ডুবে ভেসে থাকে,
চোখে চোখে কথা কয়।
বরণ ডালা হাতে করে হাসে—
হাসি যেন ঝরেপড়া ফুল।
আগুনের আভাসে হয়েছে ব্যাকুল।

[পাবনা]

-----------------------------------

বৃষ্টি নামলেই

সায়্যিদ লুমরান

 

বৃষ্টি নামলেই প্রেমিকাদের মুখ মনে পড়ে যায়
কারণ ওদের দীর্ঘশ্বাস জমে জমে মেঘ হয়
আর সেই মেঘে বৃষ্টি নামে এই আমায় ভেজাতে।
যতটা চুম্বন ওরা ঠোঁটে দিয়েছিল ভালোবেসে
সব বজ্র হয়ে ফেটে যায় ঠিক বুকের ভেতর
আর সব নষ্ট মুহূর্ত যা আমি দিয়েছি ওদের
তড়িৎ-আলোকে স্পষ্ট করে তোলে আমার দুচোখে—
সব স্মৃতি অভিশাপ বারুণ প্রেমের ক্ষত;
তাই বৃষ্টি নামলেই প্রেমিকাদের মুখ মনে পড়ে যায়।

-----------------------------------

অধ্যায়

দালান জাহান

 

হেডলাইটে গলে যাওয়া দুটো সবুজ চোখ
বাড়ির পাশে নদী হয়ে বয়ে গেছে বহুদূর
আজও পাঠ্যসূচি ডেকে আনে মাছমতী রাত
ঘুমের ঘোরে বাড়ি ফেরে শহুরে পূর্ণিমা
অধ্যায় ভর্তি অন্ধকারে
ফেরত ঢেউয়েরা রেখে যায় দান।
দৃষ্টিশূন্য দীর্ঘ থিয়েটার
ছায়া-ছায়া খেলা করে মৃত ঘুঘুরা
অপেক্ষার মেহমানদারি মূলত শব্দাংশের গান
আমি বরফ তাপে উদ্ভাবন করি হূদয়শুমারি
তার দুঃখ আমার ভালোবাসা সমান।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন