মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না: জান্তাপ্রধান

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:১৪

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেসব দেশ ‘নাক গলাচ্ছে’ তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন জান্তাপ্রধান মিন অংশ হ্লাইং। পাশাপাশি ‘ইতিবাচকভাবে’ সহযোগিতা করা অনেক দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। দেশটির ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

জান্তাপ্রধান বলেছেন, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নেপিডো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দুই বছর আগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নোবেলজয়ী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেওয়ার পর থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটি থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশটি বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েছে।

মিন অংশ হ্লাইং বলেছেন, ‘চাপ ও নানা সমালোচনা সত্ত্বেও যেসব দেশ, সংগঠন ও ব্যক্তি আমাদের ইতিবাচকভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে যারা আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে তাদের আমি কঠোর সমালোচনা করছি। রাজধানী নেপিডোতে জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওস ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সু চির সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা নেওয়ার পর সু চি ও অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ও ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন শুরু হয়, ঘরবাড়ি ছাড়া হয় লাখ লাখ মানুষ। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমনপীড়নের মুখে মিয়ানমারে এখন দৃশ্যত সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা না গেলেও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সেখানে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা। সরকারের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে আসছে। গত বছরের শেষ ভাগে সু চির বিরুদ্ধে আনা সর্বশেষ অভিযোগগুলোর বিচার সম্পন্ন হয়েছে; দোষী সাব্যস্ত হওয়া সব অভিযোগ মিলে নোবেলজয়ী এ নেত্রীকে সর্বমোট ৩৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে জান্তার আদালত। সু চি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থাও তার মুক্তি চেয়েছে। অন্যদিকে সামরিক বাহিনী বলছে, নিয়ম মেনেই সু চির সব মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক/ইআ