নতুন বছরের প্রথমেই মুক্তি পাচ্ছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘গুটি’। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত সাত পর্বের এই সিরিজটি বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তি উপলক্ষে আজ বলো ১১টায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলনের। এসময় ‘গুটি’ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সিরিজে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, শাহরিয়ার নাজিম জয়, মৌসুমী হামিদ, শরীফ সিরাজ, নাসির উদ্দিন খান, আরিয়া আরিত্রা, টুনটুনি সোবহান, আরফান মৃধা শিবলু, মাহমুদুল আলমসহ আরও অনেকে।
বাঁধন এখানে সুলতানা নামের একজন মাদক পাচারকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সুলতানা কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মাদক চোরাচালানকারী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। এই সময়ের মধ্যে সে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ করেছে কিন্তু বিনিময়ে হারাতে হয়েছে কাছের মানুষ, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও আশা। এই কাজে পালানোর কোনো পথ নেই। তবে সুলতানা তার মেয়ের জন্য সুন্দর এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে। টান টান উত্তেজনা নিয়ে চলতে থাকে পুরোটা সিরিজ।
সিরিজে মূল চরিত্রের অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, গুটি’র গল্পটা পরিচালক শঙ্খ খুব দুর্দান্তভাবে সাজিয়েছেন। একদম ভিন্ন প্লট, ভিন্ন চরিত্র, ভিন্ন ধরনের একটা গল্প তিনি ফুটায় তুলতে চেয়েছেন। এখানে আমি সুলতানা নামে একজন ড্রাগ ডিলারের চরিত্রে কাজ করেছি। চরিত্রটা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আলাপ করেছি। আমি এই চরিত্রটা অনেকদিন ধরে নিজের মধ্যে ধারণ করছি। সিরিজে কাস্টিংগুলো কিন্তু খুব ইন্টারেস্টিং।
দর্শকদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, বাংলাদেশে ফিমেল লিডের কাজ চলে না, এই কথাটা আসলে শুনতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি আগামী ১-২ বছরের মধ্যে এই ধারণার পরিবর্তন হবে। আমরা আমাদের কাজ দিয়েই এই চিন্তার পরিবর্তন করতে পারব। দর্শককেও নতুন কিছু দিতে পারব। এখন শুধু অপেক্ষা গুটি মুক্তির।
ধীরে ধীরে ওটিটিতে নিয়মিত হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। গুটি নিয়ে তিনি বলেন, এই সিরিজে আমার চরিত্রে বেশ কয়েকটা ধাপ আছে। লিপি চরিত্রটা নিজের মধ্যেই একটা মানসিক দ্বন্দ নিয়ে চলতে থাকে। এতে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। এই কাজটি আমার শিল্পী সত্তাকে সুন্দর করার জন্য কাজে দেবে। দীর্ঘদিন পর চরিত্রের ভেতরে থাকার দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখন লিপিকে দর্শক কতটা বুঝতে পারবে এটাই জানার অপেক্ষা।
‘গুটি’-তে অভিনয় নিয়ে নাসির উদ্দিন খান বলেন, শঙ্খের সঙ্গে এটা আমার তৃতীয় কাজ। তাই তার টিমের সঙ্গে একটা অন্যরকম বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে আমার। পরিচালক আমাকে যথেষ্ট সময় দেন, কাজ করার স্পেস দেয়। এতে ক্যারেক্টার কঠিন হলেও সেটি ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়।
পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত বলেন, চরকির সাথে এটাই আমার প্রথম কাজ। কাজটার জন্য খুব উন্মুখ হয়ে ছিলাম। চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে আমাদের সব শুটিং হয়েছে। অভিনেতাসহ পুরো দলটা ছিল খুব দুর্দান্ত। এখন টেনশনে আছি এটা ভেবে যে দর্শকদের কেমন লাগবে।

