চলচ্চিত্রের এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন অভিনেতা নানা শাহ। বর্তমান সময়ের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বললেন ইত্তেফাকের কাছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছে তারিফ সৈয়দ...
কী ভেবে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন?
কোনোকিছু ভেবে আসিনি। তরুণ বেলায় মোহাম্মদপুরে আড্ডা দিতাম। তখন দারুণ ডানপিটে সময় কাটিয়েছি। তখন বন্ধু এক্টা নাটক লিখলো। বললো, বন্ধু তোকে অভিনয় করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের একটি নাটক। আমি বললাম, আমি জীবনে অভিনয় করিনি। আমাকে দিয়ে হবে না। বন্ধু বললো, যার শরীরে অভিনয়ের রক্ত, তাকে দিয়ে অভিনয় হবে না এটা মানি না।
তার মানে আপনার বাবাও অভিনয়ের সাথে জড়িত ছিলেন?
বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। তবে তিনি ছিলেন অভিনয়ের পাগল। থিয়েটার কেন্দ্রীক যেকোনো চর্চাকে সবসময় পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। এর বাইরে আমার পরিবারের অনেকেই বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাদের কথা বলতে চাই না। জীবনে তাদের নাম বিক্রি করিনি। এই বয়সেও করতে চাই না। তবে বাবার প্রভাব ছিল আমার জীবনে। সেই থিয়েটারে আমার অভিনয় দেখে বাবা যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, তা ভোলার নয়!
থিয়েটারের সেইসব সিরিয়াস অভিনয় থেকে কীভাবে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় বনে গেলেন?
সেই ইতিহাস তো অনেক লম্বা। ছোট করে বলি। আমার ঐ বন্ধুর নাটক দেখে এক বিখ্যাত নাট্যপুরুষ আমাকে তার শিষ্য বানালেন। তার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন। গুরু আমাকে আদর স্নেহ শাসনে রাখলেন। তখন অনেকেই ভাবতেন আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার আপন মামা। আসলে আপন পর সবকিছুই তো সম্পর্কের ওপরেই গড়ে ওঠে । মামুন মামার পরিচালনায় তখন টিভি নাটক, বিজ্ঞাপন, মঞ্চ করতে থাকি।
কিন্তু আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোনো কাজে কেন আপনাকে আর পাওয়া গেল না?
সেটা থিয়েটার ভাঙনের গল্প বলতে হবে। গুরুকে নিয়ে ওসব কথা বলতে চাই না। কারণ থিয়েটারেও অনেক ধরনের ব্যাড পলিটিক্স থাকে। যা আমার চোখের সামনে হতে লাগলো। আমি ঠিক নিতে পারলাম না । যাক সেসব কথা, শুধু বলতে চাই আজকের নানা শাহ হওয়ার পেছনে তার অনেক অবদান।
এরপর থিয়েটার-টিভিতে নায়ক হলেও চলচ্চিত্রে ভিলেন হওয়ার কেন শখ তৈরি হলো?
এই ইচ্ছেটা অনেকদিনেরই ছিল। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিলাম না। চলচ্চিত্রে ভিলেন চরিত্রে অনেক কাজ করার সুযোগ থাকে। শাহীন সুমন এই সুযোগটা আমাকে করে দেয়।
আপনি বললেন থিয়েটারে অনেকরকম পলিটিক্স হয়। চলচ্চিত্রে তো আরও হয় শুনেছি। সেখানে কীভাবে টিকে গেলেন?
নিজের জেদ আর ভালোবাসায়। তবে এখানেও অনেকককম পলিটিক্সের শিকার আমি হয়েছি।
সেটা কী রকম?
এক প্রখ্যাত অভিনেতা এডিটিং রুমে বসে নিজে বলে বলে আমার সিকোয়েন্স ফেলে দেয়। এক-দুটি ছবি না। পরপর কয়েকটি ছবিতে। অথচ তাকে আমি জীবনে আইডল ভাবতাম!
সালমান শাহ’র সাথে আপনার একটা জুটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল বলে শোনা যায়...
হ্যাঁ, সালমান আমার এই জিদ্দি স্বভাবকে খুব পছন্দ করতো। আমি মাঝে বিরক্ত হয়ে সিনেমা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু ও নিজে আমার বাসায় গিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে আমাকে ছবিতে সাইন করায়। ও বলেছিল, আজ থেকে আমার সব ছবিতে আপনি থাকবেন। তারপরই তো মারা গেল। মাত্র একটি ছবি করা হয়েছিল। সেটাও সুপার-ডুপার হিট । তাই আমি সবসময় বলি সালমানের মৃত্যু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি।
চলচ্চিত্রের এই সময়ে আপনি বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সরব। এখনকার পরিবেশ কেমন লাগছে?
দেখুন, এখানে যে যা না সে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি চেয়ে বসে। এখন দেশের কোনো স্টার-সুপারস্টারই ইন্ডাস্ট্রির কথা ভাবে না।
আপনি কী একাই ভাবেন তাহলে?
না, আমি সেটা বলছি না। আমি তো সুপারস্টার না। আমি তো ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করি না। যারা করে, যাদের হাতে এসব ক্ষমতা তাদের কথা বলছি । কিন্তু চলচ্চিত্রের প্রতি সবসময় সত্ থেকে আজ প্রায় অর্ধশত ছবিতে কাজ করেছি। কোনোদিন কোনো নির্মাতার কাছ থেকে কাজ চাইনি। আমি মনে করি ছবিতে আমার প্রয়োজন হলে আমার ডাক আসবেই।
