আগামী ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার ছেড়ে আসা প্রিন্স হ্যারির বহুল প্রত্যাশিত আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’। যা ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। বইটিতে প্রিন্স হ্যারি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে থাকাকালীন অন্তত ২৫ জন তালেবানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
তালেবান প্রশাসন প্রিন্স হ্যারি এই স্বীকারোক্তির জন্য নিন্দা করেছে এবং একজন সিনিয়র আফগান কর্মকর্তা তাকে নিরীহ বেসামরিকদের হত্যা করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
তালেবান নেতা আনাস হাক্কানি শুক্রবার(৬ জানুয়ারি) আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা যাচাই করে দেখেছি, প্রিন্স হ্যারি যে দিনগুলিতে ২৫ মোজাহিদীনদের হত্যার কথা উল্লেখ করছেন, সেদিন হেলমান্দে আমাদের কেও মারা যায়নি, এটা স্পষ্ট যে বেসামরিক এবং সাধারণ মানুষ টার্গেট করা হয়েছিল।’
তালেবান নেতা এর আগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন।
আত্মজীবনীর মলাটের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করে তিনি লিখেন, ‘হ্যারি, আপনি যাদেরকে হত্যা করেছেন তারা দাবার গুটি ছিল না, মানুষ ছিল। তাদের পরিবার ছিল, যারা তাদের জন্য অপেক্ষা করত। আফগানিস্তানে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকেরই আপনার মতো যুদ্ধাপরাধের কথা স্বীকার করার মতো শিষ্টাচার নেই।’
২০ বছরের সামরিক দখলের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সৈন্যরা ২০২১সালে আফগানিস্তান প্রত্যাহার করে। এরপর ২০২১ সালে আগস্টে তালেবানরা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। যুদ্ধের সময় হাজার হাজার আফগান, যাদের একটি বড় সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক, নিহত ও আহত হয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাব থেকে দেশটি এখনো বের হতে পারেনি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বলখিও ব্রিটিশ রাজপরিবারের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের পশ্চিমা দখলদারিত্ব সত্যিই মানব ইতিহাসে একটি বিশ্রী মুহূর্ত।’
এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১ হামলা এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় প্রিন্স হ্যারি তার এই কাজের ন্যায্যতা ব্যাখ্যা করেছিলেন।
