মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় হবে: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:১৩

বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ে কাজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই খসড়া তৈরি হবে। এরপর প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে। ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম একইভাবে সমন্বয় করা হবে।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি হয়। এ অধ্যাৈদেশ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নয়, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে পারবে সরকার।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কবে থেকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো একটা সমন্বয় হয়ে গেছে। আমরা একটা ম্যা কানিজম (কৌশল) তৈরি করছি, যাতে প্রতি মাসে এটার সমন্বয় চলতে থাকে।’

শুধু তেলের ক্ষেত্রে এটা হবে, নাকি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রেও- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব, সবগুলোর।’

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাবেই বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তবে নতুন দাম গ্রাহকের সহনীয় সীমায় থাকার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর পরও ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে সরকারকে।’

এর আগে, রোববার (৮ জানুয়ারি) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কারিগরি কমিটি। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি শুরু করে তারা। গণশুনানিতে অংশ নেয় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও নেসকো। তারা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক শূন্য ৮ থেকে ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের পক্ষে নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরে।

গত ২১ নভেম্বর পাইকারি পর্যায়ে বিতরণ কোম্পানির জন্য বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় বিইআরসি। এরপর খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আবেদন করে ৫ প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানোর পর খুচরায় বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন।

প্রসঙ্গত, সবশেষ ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল সরকার।

ইত্তেফাক/এনএ/এসকে