ইউক্রেনে নিখোঁজ দুই ব্রিটিশ নাগরিক

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:০৬

ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে দুই ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু বাগশো (৪৮) এবং ক্রিস্টোফার প্যারি (২৮) স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) তাদের সোলেদার শহরে যেতে দেখা যায়। সেখানে রুশ ও ইউক্রেনের সেনারা যুদ্ধ করছে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

 ক্রিস্টোফার প্যারি (২৮)

ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে সহায়তা করছে।

প্যারি কর্নওয়াল থেকে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ করার জন্য ইউক্রেন ভ্রমণ করেছিলেন এবং সম্প্রতি পূর্ব ডনবাস অঞ্চলে লোকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছিলেন। প্যারি তার অনলাইন পেজে যানবাহন মেরামত, বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য জ্বালানি ও সরঞ্জাম কেনা এবং যুদ্ধের প্রথম সারিতে পালিয়ে আসা শিশুদের এবং পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা লিখেছিলেন।

অ্যান্ড্রু বাগশো (৪৮)

অন্যদিকে, বাগশোর বাবা মা নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদ মাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানেই বসবাস করতেন ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।

বাখমুত শহরের পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার (৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫ টা ১৫ মিনিটে তারা একজন নিখোঁজ ব্যক্তির রিপোর্ট পায় এবং যেকোনো তথ্যের জন্য আবেদন করা হয় যা এই দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সোলেদারে তাদের বাহিনীকে শক্তিশালী করছে।

এর আগে সোমবার (৯ জানুয়ারি) ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সোলেদারে তাদের বাহিনীকে শক্তিশালী করছে। এটি বাখমুতের কাছে একটি ছোট শহর। সেখানে তারা রাশিয়ান "ভাড়াটে গোষ্ঠী" ওয়াগনারের ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১১ মাসের যুদ্ধে বেশ কয়েকটি শহরে হামলার কারণে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকদের ইউক্রেন ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

 সেখানে তারা রাশিয়ান 'ভাড়াটে গোষ্ঠী' ওয়াগনারের ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

গত এক বছরে ইউক্রেনে ব্রিটিশদের নিখোঁজ বা বন্দী হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে রুশ সমর্থিত বাহিনীর হাতে আটক পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

সৌদি আরব জানায়, তারা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ১০ জন বন্দী বিনিময়ের মধ্যস্থতা করেছিল। সেই সময়ে এইডেন অ্যাসলিন, জন হার্ডিং, ডিলান হিলি, অ্যান্ড্রু হিল ও শন পিনারকে তাদের বন্দী হওয়ার কয়েক মাস পরে দেশে ফিরে যেতে দেওয়া হয়েছিল।

ইত্তেফাক/ডিএস