গ্যাস সংকটে ভোগান্তি শিগগিরই কমবে না

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬:১৩

দেশে গ্যাসের সংকট কাটছে না। চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিগগিরই দূর হচ্ছে না চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি। বিদ্যমান সংকটে শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস না পেয়ে অনেক বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না।

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে গ্যাসের এই সংকট সার্বিক অর্থনীতি ও জন জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঘাটতি মেটাতে বড় আকারে স্থানীয় গ্যাসের জোগান বাড়ানোর উপায় শিগগিরই করা যাচ্ছে না। আবার নগদ অর্থের সংকটে বিদেশ থেকে গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির চেয়ে শিল্প ও সার কারখানায় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের জোগান যতটুকু সম্ভব বাড়াতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ঢাকা মহানগর, সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশির ভাগ শিল্পকারখানা দিনের অনেক সময় বন্ধ থাকছে। এছাড়া রাজধানীর টিকাটুলী, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, হাতিরপুল, পুরান ঢাকা, শ্যাওড়া, রামপুরাসহ অনেক স্থানে বাসাবাড়িতে দিনের একটি বড় অংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও তার চাপ কম। রান্নায় বিকল্প উপায়, অর্থাৎ এলপিজি, কেরোসিনের চুলা ও বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারে সীমিত আয়ের মানুষ হিমশিম খেতে শুরু করেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘সরবরাহে ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিতরণ করা যাচ্ছে না। দেশে উৎপাদনে ঘাটতি আছে। আবার বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানিও এখন বন্ধ রেখেছি। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় গ্যাস আমদানি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি—দুটিই বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। নতুন কুপ খনন ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ চলছে।

ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, দৈনিক হিসেবে তিতাসের ২ হাজার ২০০ ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে জোগান রয়েছে মাত্র দেড় হাজার ঘনফুট। ৭০০ ঘনফুট গ্যাসের সংকট নিয়ে চলতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে এখন উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত আছে ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ আছে কমবেশি ২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ, দৈনিক ১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে, যা মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সার কারখানায় গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৩১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। বাসাবাড়িতে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

গত সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, খোলাবাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনা বন্ধ করা হয়েছে। তাই সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের একটা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আছে। এখন মূল দৃষ্টি হলো শিল্পে গ্যাস এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো। এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ বেশি পড়ে আর গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমে।

 

ইত্তেফাক/ইআ