উপজেলা পরিষদের সভা বর্জন করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:১১

সমন্বয়হীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেছেন ৬ ইউপি চেয়ারম্যান। এ দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দিন শাহ লুহিন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীনও অনুপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যানরা জানান, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আমাদের সাথে সমন্বয় না করেই উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন এককভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

এরই মাঝে সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের মতামত ও ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইউএনও কার্যালয়ে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচীর ২৬৫৯ জনের তালিকা চূড়ান্ত করে। গত ১০ জানুয়ারি সেই তালিকা সংশোধনের দাবিতে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পর্যন্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করেছিল ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য-সদস্যারা। পরে ওসি চিত্তরঞ্জন রায়ের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হওয়ায় অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। উদ্ভুত পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মাসিক সভাসহ উপজেলা প্রশাসনের সকল কাজ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারী) সকালে সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সভাকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১১টায় উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়নের সভাপতিত্বে ও ইউএনও রাশিদা আক্তারের সঞ্চালনায় শুরু হয়ে দুপুর ১ টার দিকে শেষ হয়। সেই সভায় সমন্বয়হীনতা ও মূল্যায়ন না করার অভিযোগে আংগারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ শাহ, আলোকঝাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন, খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী ও ভেড়ভেড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল সভা বর্জন করেন। এদের পাশাপাশি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান জনবন্ধু এটিএম সুজাউদ্দীন লুহিন শাহ্ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভিনও অনুপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি আংগারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ শাহ বলেন, বিভিন্ন কাজে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সমন্বয় না করা এবং পরিপত্র অনুযায়ী ভিডব্লিউবি তালিকা তৈরি না করায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা বর্জন করেছি। আমাদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য-সদস্যাগণ।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউএনও রাশিদা আক্তার বলেন, অনলাইনের মাধ্যমেই ভিডব্লিউবি বা ভিজিডি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন সমন্বয়হীনতার অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন বলেন, জনপ্রতিনিধিদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার। মাসিক সভায় ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি অনভিপ্রেত। নিজেদের মধ্যে যেগুলো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তাই দায়িত্বশীল হয়ে সভা বর্জন না করে সহনশীল থেকে আগামী মাসিক সভায় তারা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির তালিকা অনলাইনের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়েছে, এখানে আমাদের কোন হাত নেই।

ইত্তেফাক/এসকে