মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ুক ইসলামের মর্মবাণী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩:৩৩

‘তাবলিগ’ শব্দটি আমাদের সবার কাছে পরিচিত। এর আভিধানিক অর্থ পৌঁছানো। ইসলামের শাশ্বত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে তাবলিগ বলে।  বিদায় হজের ভাষণে প্রিয়নবি (স.) ঘোষণা করেন, আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। প্রিয়নবি (স.)-এর এই নির্দেশ পালনার্থে যুগে যুগে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন, হক্কানি পির-মাশায়েখ ও ইসলামি মনীষীগণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাষ পর্যন্ত ইসলামের তাবলিগ করে গেছেন। সত্ কাজের আদেশ ও অসত্ কাজের নিষেধ করাই ছিল তাদের মিশন ও ভিশন।

মহান আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় বন্ধু হজরত মোহাম্মদ (সা.)কে বিশ্বময় দাওয়াতের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, আপনি বোঝাতে থাকুন, নিশ্চয় বোঝানো ইমানদারদের উপকারে আসবে। (সুরা জারিয়াত, আয়াত-৫৫) পবিত্র কোরআনের অন্যত্র আরো ইরশাদ করেন, ‘হে নবি! আপনি আপনার রবের দিকে জ্ঞানগর্ভ কথা ও উত্তম উপদেশ দ্বারা দাওয়াত দিন এবং তাদের সঙ্গে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়।’ (সুরা নাহল, আয়াত-১২৫) যারা মানুষকে শান্তি, কল্যাণ ও একত্ববাদের দাওয়াত দেয় এবং ইসলামের দিকে আহ্বান করে, তাদের প্রশংসা করে মহান রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তার চেয়ে উত্তম কথা কার? যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলিম।’ (সুরা হা-মিম সিজদা, আয়াত-৩৩) মহান আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো; যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে পাষাণ হূদয়, কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ নিয়োজিত আছে, তারা কোনো বিষয়ে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয় না, আর তারা সেটাই করে, যা তাদের নির্দেশ করা হয়।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত-৬)  হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করো, রূঢ় আচরণ কোরো না, সুসংবাদ দাও, ভীতসন্ত্রস্ত কোরো না।’ (বুখারি, মুসলিম) ইসলামের বাণী প্রচার করতে গিয়ে আমাদের প্রিয়নবি (স.) কতই না কষ্ট, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। সুদীর্ঘ ১৩ বছর মক্কার কাফেরদের নির্মম নির্যাতন হাসিমুখে বরণ করেছেন। অবরুদ্ধ জীবন কাটিয়েছেন। মক্কা ও তায়েফে কাফেরদের পাথরের আঘাতে বারবার রক্তাক্ত হয়েছিল তার পবিত্র দেহ।  হজরত মুনিব আজাদি (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (স.)কে জাহিলিয়াতের যুগে দেখেছি, তিনি বলছিলেন, হে মানব জাতি! তোমরা বলো, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’, তাহলে সফলকাম হবে। এ কথা শুনে কেউ তার পবিত্র চেহারা মোবারকে থু-থু নিক্ষেপ করছিল, আবার কেউ তার ওপর মাটি নিক্ষেপ করছিল, আবার কেউ তাকে গালি দিচ্ছিল। এভাবে দিনের অর্ধেক কেটে গেল। তারপর একটি মেয়ে তার কাছে পানির পাত্র নিয়ে এলো। তিনি সেই পানি দ্বারা নিজের চেহারা ও উভয় হাত ধুয়ে নিলেন এবং বললেন, হে আমার মেয়ে! তুমি তোমার পিতার ব্যাপারে অপমৃত্যু ও অপমানের আশঙ্কা করবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই মেয়েটি কে? লোকজন বলল,  ইনি রসুলুল্লাহ (স.)-এর কন্যা যয়নব (রা.)। তিনি একজন সুশ্রী বালিকা ছিলেন। (তাবরানি, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)

লেখক : শিক্ষক, গবেষক, মুফাসিসরে কোরআন ও খতিব

ইত্তেফাক/এসকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন